রাজধানীর গুলশান এক নম্বর সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার ও সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ দিনের মাথায় এবার পুড়ল খিলগাঁও রেলগেট সংলগ্ন সিটি করপোরেশন হকার্স মার্কেট। এতে প্রায় ১০০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। গত বুধবার গভীর রাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাত পৌনে ৩টার দিকে খিলগাঁও রেলগেট সংলগ্ন সিটি করপোরেশন হকার্স মার্কেটে আগুন লাগে। সে সময় সব দোকান বন্ধ ছিল। দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে।
মনির হোসেন নামে এক ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী জানান, তিনি রাতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই থাকেন। অগ্নিকাণ্ডের সময়ও তিনি দোকানেই ছিলেন। বুধবার রাত ৩টার দিকে ‘আগুন’, ‘আগুন’ চিত্কার শুনে তার ঘুম ভাঙে। তড়িঘড়ি করে তিনি উঠে ভেতর থেকে দোকানের শাটার খুলে বের হয়ে দেখেন, তার দোকানের দক্ষিণ পাশে আনুমানিক ২০ গজ দূরের দোকানগুলো জ্বলছে। এরপরই তিনি নিজের দোকানের মালপত্র সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন ধেয়ে আসে তার দোকানেও।
খিলগাঁও সিটি করপোরেশন দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোকছেদ আলী সরদার বলেন, মোট ১২৮টি দোকান পুড়েছে। এর মধ্যে হকার্স মার্কেটের ৯২টি এবং উত্তরা ও পূবালী মার্কেটের ৩৬টি দোকান রয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস বলছে, দোকানের সংখ্যা ১০০টির কম।
খিলগাঁও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার আলী আজম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট পর্যায়ক্রমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ৫টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সাড়ে পাঁচটায় পুরোপুরি আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। পুড়ে যাওয়া দোকানের মধ্যে তৈরি পোশাক, কাপড়, হার্ডওয়্যার ও ক্রোকারিজের দোকান রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের প্রাথমিক ধারণা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে পরে জানানো হবে।
মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি রাজধানীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তারা আতঙ্কিত ছিলেন। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ গুলশান এক নম্বর সিটি করপোরেশন কাঁচা বাজার ও সুপার মার্কেটে আগুনে ২০০ দোকান পুড়ে যায়। এতে তারা আরো আতঙ্কিত ছিলেন।
এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার আগুনে প্রাণ হারান ৭১ জন। ২৮ মার্চ বনানীর কামাল আতাতুর্ক সড়কের এফ আর টাওয়ারের আগুনে মারা যান ২৬ জন।
