দ্রুত বিকাশমান পাঁচ অর্থনীতির একটি বাংলাদেশ :বিশ্বব্যাংক

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ০০:২৫

বিশ্বে দ্রুত বিকাশমান পাঁচটি দেশের একটি বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখায় এ অর্জন হয়েছে  বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। তবে বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না হওয়া এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বড় ঝুঁকিতে রয়েছে ব্যাংকিং খাত। রাজস্ব আহরণ কম হওয়ায় এই খাতেও ঝুঁকি দেখছে সংস্থাটি। চলতি অর্থবছর মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ উন্নয়নের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে এই উপলক্ষে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: রেগুলেটরি প্রেডিক্টেবলিটি ক্যান সাসটেইন হাই গ্রোথ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলেও ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি ও রেমিটেন্সে ভর করে বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, রপ্তানি, আমদানি, রাজস্ব আদায়, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি বিনিয়োগসহ অর্থনীতিক সূচকগুলো বিশ্লেষণ করে চলতি অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি হবে বলে আমরা ধারণা করছি। উল্লেখ্য, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর রেকর্ড ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক হিসাবের তথ্য জানিয়ে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রবার্ট জে শোম বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির অর্জন অনেক। এটা ৭ শতাংশের বেশি হবে বলে আমরা ধারণা করছি। বিশ্বে যে পাঁচ দেশের জিডিপি সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধির হিসাবে দ্রুত অগ্রসরমান অন্য দেশগুলো হলো— ইথিওপিয়া (৮.৮%), রুয়ান্ডা (৭.৮%), ভুটান (৭.৬%) এবং ভারত (৭.৫%)।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে ড. জাহিদ হোসেন উল্লেখ করেন রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি অনেক কম। অর্থবছরের ৭ মাসে মাত্র ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে রাজস্ব আদায়ে, যা গত ১৬ বছরের মধ্যে ধীর গতি। ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন ৯৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। যদি খেলাপি ঋণ মাত্র ৩ শতাংশ বাড়ে তাহলে ৬টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়ে যাবে। যদি ৬ শতাংশ বাড়ে তাহলে ২৯টি ব্যাংক দুর্বল হয়ে যাবে। ঋণ পুনঃতফসিল খেলাপি ঋণ বাড়াচ্ছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ একটি ছোঁয়াচে রোগ। ঋণ পুনঃতফসিল ছোঁয়াচে রোগটা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই ঋণগ্রহীতা বারবার পুনঃতফসিল করছেন, কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আমি বিপদগ্রস্ত। খেলাপি ঋণের সবটাই অনিচ্ছাকৃত নয়। অনিচ্ছাকৃত হলে একবার, দুইবার হতে পারে। কিন্তু বারবার হতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতিতে  বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি কমিয়েছে। আমার মনে করছি এবার বাজেট ঘাটতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে যা গত অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। টাকার অঙ্কে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাড়লেও শতাংশের হিসাবে অনেক কম।

অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অবকাঠামো খাতে বিশেষ করে সড়কের ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে উন্নয়ন করতে হবে। প্রবৃদ্ধির অর্জনকে টেকসই করতে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। সেইসঙ্গে অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক অবস্থার উন্নতি করতে হবে।

২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্য আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে বাংলাদেশে প্রচুর বিনিয়োগ হতে হবে, প্রয়োজনীয় জনবল থাকতে হবে এবং আর্থিক খাত, ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ও অবকাঠামো শূন্যতা পূরণের মতো খাতগুলোতে উদ্ভাবনী সংস্কার করতে হবে।