গোয়াল ও সীমান্ত হাটে গিয়ে গরু চেক করবে না বিজিবি

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ০০:২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এখন থেকে কারো গোয়াল বা উঠান ও সীমান্ত হাটে গিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গরু চেক করবে না। রাস্তা-ঘাটে গরু চেক করে দেখবে না, সেটি বাংলাদেশি নাকি ভারতীয় গরু। তারা শুধু সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিজিবি মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সীমান্তে বিজিবি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে এবং ভারতের সাথেও সুসম্পর্ক বজায় আছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ রকম সুসম্পর্ক আর ছিল না। গতকাল বৃহস্পতিবার পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে মাদক, মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকার সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ জন নিহত, আহত হয় ২০ জন।

ঠাকুরগাঁওয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের সংঘর্ষের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সে বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে একটি এবং সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি জানা যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ অসচ্ছল, তাই তাদের জন্য সীমান্তে ‘বিট খাতাল’ চালু করা হয়েছিল। মাঝখানে কিছুদিন তা বন্ধ করা হয়। এখনো কিছু ‘বিট খাতাল’ চালু আছে, যেগুলো আপনারা চাইলে বন্ধ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্যরা বলেন, বিজিবি সীমান্ত এলাকা থেকে ৫ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। ওই ৫ কিলোমিটারের সীমা যেন কমিয়ে আনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  বলেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী বিজিবি কাজ করে। এটা কমানো যায় কি না, তা আলোচনা করে দেখতে হবে।

মতবিনিময় সভায় আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সীমান্তে বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ এক সঙ্গে কাজ করলে ওপার থেকে মাদক আসা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা মাদকের আসামি ধরছি; কিন্তু বিচারকের সংখ্যা কম থাকায় সময় মতো তাদের বিচার হচ্ছে না। বিচার দেরি হওয়ার কারণে এক সময় এসব মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সাক্ষী পাওয়া যায় না, আলামত পাওয়া যায় না। যদি বিচারক কম থাকে তাহলে ট্রাইব্যুনাল করে কোনো লাভ হবে না।

র্যাব প্রধান আরো বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের নিয়ে আমরা একটা টেম্পোরারি আদালতে বিচার করতে পারি। এছাড়া অনেক অভিজ্ঞ বিচারক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবসর গ্রহণ করে অভিজ্ঞতার ভার নিয়ে ঘরে বসে আছেন। তাদের কাজে লাগানো উচিত।

বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনাররা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন  ৩২টি এলাকার সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকরা।