বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিং

আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর অনুরোধ

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৩০

জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করতে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, সীমিত বাজেট নিয়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। এমনকি অনেক দেশের তুলনায় খুব কম বাজেট নিয়েও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দক্ষিণ এশিয়ায় স্বীকৃত অবস্থানে পৌঁছেছে। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ উত্তরণের জন্য আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের হার বাড়ানো প্রয়োজন। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই ইউনিয়ন পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার পরিচালনায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেন। এখন সারাদেশে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক সাফল্যের সঙ্গে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রতিটি ক্লিনিক থেকে প্রায় ১০০ মানুষ চিকিত্সা সেবা পাচ্ছে। ৩০ রকমের ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা উপকরণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী-পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধসহ সকল ধরনের মানুষ সহজে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। যা দেশে সমতাভিত্তিক সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং এই সফলতা বিশ্বের অনেক দেশের জন্য অনুকরণীয়। বর্তমান সরকার পুরানো কমিউনিটি ক্লিনিক নতুন করে সংস্কার করে আরো রোগীবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে ডেলিভারি রুমসহ, পৃথক বিশ্রামাগার, কাউন্সেলিং রুম থাকবে।

                তিনি বলেন, শহরের দরিদ্ররা যেন সহজে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সেজন্য শহরের হাসপাতালগুলোতে ‘বিশেষ কর্নার’ খোলার চিন্তা করছে সরকার। এ ধরনের কর্নার খোলা হলে শহরের দরিদ্র মানুষরা দ্রুত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।