বন্দরে ইটভাটায় শ্রমিক নির্যাতন বন্দিশালা থেকে নারী-শিশুসহ ৬২ জনকে উদ্ধার

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৪১

ইট তৈরি কাজের বকেয়া মজুরি চাওয়ার ‘অপরাধে’ নারী ও শিশুসহ ৬২ জনকে একটি ঘরে আটকে রেখে না খাইয়ে রাখাসহ শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে ইটভাটা মালিক আলিম ও মিজানের বিরুদ্ধে। দু’দিন আটকে থাকার পর শ্রমিকরা ‘৯৯৯’- এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পরে গত বুধবার রাতে বন্দরের ফুনকুল এলাকার এ.বি.এফ ব্রিক ফিল্ড থেকে নারী ও শিশুসহ ওই ৬২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে পুলিশ। শ্রমিক তাদের বকেয়া পাওনা ৫০ হাজার ৫ শত টাকা চাইলে মালিক পক্ষ উল্টো ৪ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে শ্রমিকদের একটি ঘরে আটকে রাখে।

কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আনোয়ার হুসাইন জানান, বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউপির ফনকুল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহম্মদ আলীম, বারপাড়া গ্রামের মিজান ও দাশেরগাঁও গ্রামের সাহাবুদ্দিন মিলে ফনকুন এলাকায় এ.বি.এফ নামে একটি ব্রিক ফিল্ড পরিচালনা করে। এ ব্রিক ফিল্ডে ইট প্রস্তুত করার জন্য তারা চুক্তিপত্র করে শেরপুর জেলার সদর থানার জিন্নত আলী ওরফে জিনি মিয়ার ছেলে কুতুবউদ্দিনের সাথে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ইট তৈরির কাজ শুরু করেন কুতুবউদ্দিন ও তার শ্রমিকরা। গত বুধবার থেকে কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টির কারণে ইট তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গত ১ এপ্রিল রাতে ইটভাটার মালিক আলিম ও মিজানের কাছে ইট তৈরির মজুরির বকেয়া ৫০ হাজার ৫ শত টাকা চায় শ্রমিকরা। পরে মালিক আলীম ও মিজান উল্টো ৪ লাখ টাকা তাদের কাছে দাবি করে। এসময় ইট ভাটা শ্রমিক কুতুবউদ্দিন বকেয়া টাকা থেকে খাবারের জন্য টাকা চায়। এতে মিজান ও আলীম ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকদের নির্যাতন করে ইটভাটার একটি ঘরে আটকে রাখে। দুই দিন অবরুদ্ধ থাকার পর অভুক্ত শ্রমিকরা মোবাইলে ‘৯৯৯’ নাম্বারে ফোন করে তাদের উদ্ধারের জন্য পুলিশের সহায়তা চায়। পরে কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ইটভাটার ওই ঘর থেকে ১৪ জন নারী ও ৯ জন শিশুসহ মোট ৬২ জনকে উদ্ধার করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মালিক মিজান ও আলীম পালিয়ে যায়। পরে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইয়ানবী’র মাধ্যমে বকেয়া ৫০ হাজার ৫’শ টাকা আদায় করে শ্রমিকদের শেরপুর নিজ গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।