মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় ওয়াসার পানিতে ময়লা দুর্গন্ধ

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৭, ০৩:১৬

বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার পড়েছে রাজধানীর মিরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায়। গত এক সপ্তাহ ধরে মিরপুরের আহাম্মদ নগর, বড়বাগ এলাকা, মণিপুর, পশ্চিম মণিপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় পানিতে ময়লার দুর্গন্ধ আসছে। পানির কল খুললেই টেপের মুখ দিয়ে ময়লা বেরিয়ে আসছে।

মিরপুরের অধিকাংশ এলাকার পানি ময়লাযুক্ত এবং পান ও ব্যবহার অযোগ্য। রীতিমতো ফুটিয়েও পানি থেকে দুর্গন্ধ দূর করা যাচ্ছে না। ময়লা-আবর্জনা, পয়ঃবর্জ মিশে পানিকে দূষিত করে তুলেছে। দূষিত পানিতে শিশুদের শারীরিক অবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। নানা রোগ ব্যাধি বিশেষত ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে।

দুর্গন্ধ পানির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ইত্তেফাককে বলেন, সঠিকভাবে পানি বিশুদ্ধকরণ করা হয়। প্রতিনিয়ত ওয়াসার লাইন থেকে পানি চুরি হচ্ছে। মেইন লাইন ছিদ্র করে এটা করার কারণে পানিতে ময়লা প্রবেশ করছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

ওয়াসার মিরপুরের জোনের দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী প্রকৌশলী এম এ মোতালেব দুর্গন্ধযুক্ত পানির কথা স্বীকার করে বলেন, স্যুয়ারেজ ও ওয়াসার লাইনের সংযোগ একাকার হয়ে গেলে এই সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। সমস্যা চিহ্নিত করা গেছে। সংকট উত্তরণে কাজ চলছে। আশা করছি, শিগগিরই এই সংকট দূর হবে।

সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পিছু ছাড়ছে না পানি সংকট। রাজধানীবাসীর নিত্য এ সমস্যার সাথে যোগ হয়েছে দুর্গন্ধ। কোনো কোনো এলাকায় ময়লা ও ফেনাযুক্ত ঘন কালো, ঘোলাটে পানির সাথে কেঁচোসহ নানা পোকা মাকড় আসছে। একদিকে পানি সংকট তার উপর দুর্গন্ধযুক্ত পানি দুর্বিষহ করে তুলেছে ঐ এলাকাবাসীর। পুরনো ঢাকা ছাপিয়ে বর্তমানে পানি সংকট উত্তরার মধ্য আজমপুর, রায়ের বাজার এলাকার সিকদার রিয়েল স্টেট, টালি অফিস, বউ বাজার, মিতালি রোড, মোহাম্মদপুরে দেখা দিয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে বেশ কিছু দিন ধরে দুর্গন্ধযুক্ত পানির সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এদিকে পানিতে দুর্গন্ধ ও সংকটের সুযোগে নগরীতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের নামে সমপ্রসারিত হচ্ছে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের পানির রমরমা বাণিজ্য। এতে সাধারণ মানুষ ঠকছে। নকল ও ভেজাল পানি পান করে অনেকেই স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ছেন। অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তারা রাজধানীতে প্রতিদিন নকল ও ভেজাল পানি সরবরাহ করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। পানি নিয়ে বাণিজ্য রোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ভিআইপিদের পানি যোগান দিতেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। তারা সাধারণদের প্রতি নজর দেয়ার সুযোগই পাচ্ছে না। বাইরে থেকে কেনা পানি দিয়ে জীবন ধারণের চেষ্টা  করছেন কোনো কোনো পরিবার।

এদিকে পুরান ঢাকার ওয়ারী, শশী মোহন বসাক লেন, বনগ্রাম ও মৈশুন্ডি এলাকায় গত এক মাস যাবত্ পানি সংকট লেগে আছে। সারা দিন চেষ্টার পরও এক বালতি পানি জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। দিন-রাত চেষ্টার পর যতটুকু পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে তাতেও দুর্গন্ধ।

শশীমোহন বসাক লেনের বাসিন্দা গোবিন্দ্র চন্দ্র দে ইত্তেফাককে বলেন, পানি সংকট আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। ভোর রাত থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কিছুটা পানি ওয়াসার লাইনে আসলেও তাতে রয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। কালচে  দুর্গন্ধযুক্ত পানি মুখে তোলা যাচ্ছে না। ফুটানোর পর পানির পাত্রের তলায় কালো কাঁদার ন্যায় গাদ জমা হচ্ছে। বিশুদ্ধ না হওয়ায় পানি পান করা সম্ভব হচ্ছে না।

মিরপুর আহাম্মদ নগর (বড়বাগ) এলাকার বাসিন্দা আবদুর রশীদ বলেন, গত এক সপ্তাহ যাবত্ এলাকায় পানি সংকট চলছে। ওয়াসার লাইনে প্রতিদিন যতটুকু পানি আসে তাতেও দুর্গন্ধ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একাধিক বার ওয়াসাকে জানানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু