কিছুটা ভয়। কিছুটা উত্তেজনা। কপাল ঘামানো। মুখ শুকানো। পানির পিপাসা। নতুন পরিবেশ। অজানা পরিস্থিতি। কলেজের প্রথম দিন। স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের একটি দিন, সেই প্রতিষ্ঠানে প্রথম দিন হিসেবে অভিজ্ঞতা আছে। সুখ-দুঃখ, হাসি-তামাসা, তিক্ততা নানান কিছুর সমন্বয়ে কলেজের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজের প্রথম দিনের গল্প করেন।
কে এম হারুন। কলেজ জীবনের প্রথম দিন সত্যি একটি স্মরণীয় দিবস। স্বপ্নবাজ এ তরুণের কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় তার আনন্দ যেন আকাশ ছোঁয়া। সেখানে এটা আরেকটু বেশিই আনন্দদায়ক হবে যদি সেটি স্বপ্ন পূরণ হয়। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে সবে কলেজে ক্লাস শুরুতে উচ্ছ্বাসটায় অন্যরকম। সবার চোখে-মুখে নতুন দিগন্তের হাসি এ যেন স্বপ্নের সিঁড়িতে একধাপ এগিয়ে। তরুণ এই ছাত্র-ছাত্রীদের মনোমুগ্ধকর আমেজ সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে কলেজের প্রথমদিনে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়। সবাই তো প্রবল উত্কণ্ঠায় অপেক্ষা করছে ক্লাস শুরুর। নতুন পরিবেশ অপরিচিত মুখ আর কলেজের প্রথম দিনের অনুভূতি সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে অপ্রকাশিত সুপ্ত উচ্ছ্বাস। অজানা পরিবেশ, অজানা সব মানুষ। কেউ কাউকে চিনছে না। সবাই সবার সঙ্গে পরিচিত হতে চায় কিন্তু বিব্রত অনুভূতির জন্য কেউ কারো সঙ্গে পরিচিত হয় না।
প্রতিদিনের মতো সে দিনের আবহাওয়াও একই ছিল, কাউকে চেনা নেই, জানা সেই। কার কি নাম এমনকি সেটা পর্যন্তও জানে না। প্রথম দিন কলেজে তাই ক্লাস হচ্ছে না, এ সুযোগে কলেজের বিভিন্ন কোণে ঘোরাঘুরি করছে অনেকেই। নটর ডেম কলেজে সদ্য ভর্তি হওয়া রাকিব তানভীর সৌর্য বলছিল, আমি খুবই আনন্দিত। আমি এখানে চান্স পেয়েছি। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখানে পড়া আমার স্বপ্ন ছিল। তাই অন্য কোনো কলেজের সামনে তো দূরের কথা নাম মনে আনিনি। বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় প্রস্তুতি নিয়েছি ফল পেয়েছি। সে আরো বলছিল রেজাল্টের পরের অনুভূতিও ছিল ভাষায় বোঝানোর মতো না।
নটর ডেম কলেজের আরেক শিক্ষার্থী এম তাইফুল ইসলাম বলছিল কলেজে প্রথম দিনের অনুভূতি। সে বলছিল, নটর ডেম কলেজে আমি ভর্তি হয়েছি, এই কলেজের সফলতা, পড়াশোনার মান, নিয়মিত ক্লাসে পাঠদান, আমার ভবিষ্যত্ ক্যারিয়ারের কাঠামো তৈরিতে সাহায্য করবে। আমি কলেজের কৃতী শিক্ষার্থীর স্মৃতি হয়ে থাকতে চাই। হতে চাই অনেক বড় কিছু। আমি এই কলেজে ভর্তি হয়ে গর্বিত।
ঢাকা মতিঝিল আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী সায়েদা তাসনোভা তৌফিক কলেজের প্রথম দিনের অনুভূতি বলছিল। কলেজে প্রথম দিন ক্লাস করতে যাবো। কেমন যেন একটা মিশ্র অনুভূতি টের পাচ্ছিলাম ভেতরে ভেতরে। প্রথমবার স্কুলে যাওয়ার সেই অনুভূতিটা ফিরে ফিরে আসছিল। কলেজে পড়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু মতিঝিল আইডিয়াল কলেজে পড়বো কখনো ভাবিনি। আজ সেখানে আমি ছাত্রী হিসেবে উপস্থিত। কলেজের বিরাট বিল্ডিংয়ের দিকে তাকাতেই কেমন যেন গর্ব হলো। মনে হলো, আমি বড় হয়েই গেছি। শিক্ষক বন্ধুদের আতিথেয়তায় অপরিচিত সবকিছুই পরিচিত মনে হয়েছে।
সিটি কলেজে ভর্তি হয়েছে মীর রাকিবুল ইসলাম। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম কলেজের প্রথম দিনের অনুভূতি কেমন ছিল? হাসিমাখা মুখে সোজা উত্তর, এর চেয়ে বড় আনন্দের দিন আর হয় না। আমি ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাই আর কলেজে পড়ে আমার ক্যারিয়ারের বীজ বপন করতে চাই। সময়ের সঠিক ব্যবহার করে আমি পৌঁছাতে চাই আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।
এদিকে অনেকটা স্বপ্নের কলেজ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে রাশেদুল হাসান ইমদাদ। তিনি তার কলেজের প্রথম দিনের কথা জানাচ্ছিলেন এভাবে, ‘কলেজে প্রবেশ করে প্রথমে খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম যে, আমি কিভাবে এই নতুন পরিবেশকে খাপ খাইয়ে নেব। কিন্তু বন্ধুদের সাথে পরিচয় হওয়ায় পর সব মিলিয়ে ভয়ে ভয়ে হলেও খুব আনন্দের সাথেই কেটেছে কলেজের প্রথম দিন।’
ইত্তেফাক/আনিসুর
