স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আব্দুল মান্নানকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ৪ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। পুলিশ অবরোধ তুলে নিতে গেলে জনতা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৫০ টি টিয়ার শেল ও ১০০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এদিকে বুধবার বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে আব্দুল মান্নানের লাশ তার বাড়িতে নিয়ে গেলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। উত্তেজিত জনতা তাৎক্ষনিকভাবে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আব্দুল মান্নানকে হত্যার প্রতিবাদে বিকেল ৫ টার দিকে বালিয়াডাঙ্গি মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে রাস্তার উভয় পাশে শতশত গাড়ি আটকে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ে।
এ সময় ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। জনতার নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে পুলিশের একটি মাইক্রোবাস ভেঙ্গে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ অর্ধ শতাধিক টিয়ার সেল ও শতাধিক রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
রাত ৯ টার দিকে খানকা শরীফের পীর সাহেবের পুত্র মানিক উলুব্বীর মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। রাত ৯টার পর ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমীরের ছোট ভাই সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজিব দত্তের সঙ্গে দুদিন আগে সদর উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
এর জের ধরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মুন্সিরহাট এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আব্দুল মান্নানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছুরিকাঘাত করে যুবলীগ নেতা সজিব দত্ত ও তার সহযোগীরা। এ সময় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুম্মন তাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হামলাকারীরা। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে আনার পথে আব্দুল মান্নান মারা যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা জুম্মনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
