সেই মুক্তামনি ঢাকা মেডিক্যালে, রোগ শনাক্ত হয়নি

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৭, ০০:৫৪

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনিকে (১১) গত মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার রোগ এখন পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেননি চিকিত্সকরা। চিকিত্সকদের ধারণা, সে ডারমাল ভাসকুলার ম্যালফরমেশন, লিমফেটিক ম্যালফরমেশন, নিউরোফাইব্রো-ম্যাটোসিস কিংবা কনজেনিটাল হাইপারক্যারাটোসিস-এই চারটি চর্মরোগের মধ্যে যে কোনো একটি রোগে জটিলভাবে আক্রান্ত। তার শরীরের চেয়ে হাত ভারী হয়ে গেছে। ভুল চিকিত্সার কারণে এমনটি হতে পারে।  তবে তার সুচিকিত্সার বিষয়ে আশাবাদী চিকিত্সকরা। তারা জানিয়েছেন, মুক্তামনির অপারেশন প্রয়োজন। অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতার কারণে তাকে অপারেশনের উপযোগী করতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে।

মুক্তামনি বর্তমানে ঢামেক বার্ন ইউনিটের ৬০৮নং কেবিনে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধানে চিকিত্সাধীন। গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে বার্ন ইউনিটের কেবিনে শুয়ে থাকতে দেখা যায় মুক্তাকে। নাসর্রা তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রক্ত সংগ্রহ করছেন। তবে রক্তশূন্যতার কারণে তার বাম হাতের কয়েকটি পয়েন্টে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত নেওয়ার চেষ্টা করেও পারেননি তারা। তৃতীয় দফায় তার রক্ত নেওয়া হয়। তার চিকিত্সার জন্য আট সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মুক্তার চিকিত্সার বিষয়ে বোর্ডের সদস্য ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মুক্তার হাতের অপারেশন দরকার। তবে তার শরীরে পুষ্টি এবং রক্তের পরিমাণ খুব কম। সময় মতো মেয়েটির সঠিক চিকিত্সা হলে, এ অবস্থা হতো না। তার হাতের ফাংশন ঠিক আছে। সে হাত মুঠি করতে পারে। আগামী ৩ দিন প্রতিদিন ১ ব্যাগ করে সতেজ রক্ত তাকে দিতে হবে। মুক্তার রক্তের গ্রুপ এ পজিটিভ। ৩ দিন পর আমরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও হিমোগ্লোবিন চেক করবো। এরপর আরো রক্ত লাগবে কিনা  সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এছাড়া তাকে পুষ্টিকর খাবার দিয়ে অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। আমরা আশা করছি এ সময়ের মধ্যে শিশুটি অপারেশনের জন্য ফিট হবে। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তাররা তাকে দেখে গেছেন। তারা মতামত দিয়েছেন। আমরা তার বিষয়ে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নিবো।

সম্প্রতি ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে মুক্তার বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবরটি প্রকাশিত হলে সরকারিভাবে বিনামূল্যে মুক্তার চিকিত্সার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার যাবতীয় চিকিত্সার দায়িত্ব নেন।

ইত্তেফাক/নূহু