গাজীপুরের বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর গৃহবধু নুশরাত জাহান টুম্পা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিহত টুম্পার স্বামী সোলায়মান মিয়াকে তিন দিনের পুলিশী রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বৃহস্পতিবার সকালে মামলার প্রধান আসামি সোলায়মান মিয়াকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম সুব্রত শিকদারের আদালত- ১২তে হাজির করেন। শুনানী শেষে ওই আদালতের বিচারক আসামির তিন দিনের পুলিশী রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়ার প্রেমিকা বুবলী বুধবার ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিহত টুম্পার পিতা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়া স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে ঢাকা উত্তরার ৭নং সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাসায় বসবাস করতো। ওই বাসাতেই গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুন হন গৃহবধু নুসরাত জাহান টুম্পা। পর দিন ওই বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় গৃহবধূ টুম্পাকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন টুম্পাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ওই বছর ২০ সেপ্টেম্বর টুম্পার পিতা নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে কাউন্সিলর মোঃ সোলায়মান মিয়াকে প্রধান আসামি এবং তার বাবা, মা, ভাই, প্রেমিকা বুবলি, গাড়ি চালক আমিরুলসহ ছয়জনকে আসামি করে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সোলায়মানের পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় শ্বাসরোধ করে টুম্পপাকে হত্যা করা হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। মামলার প্রধান আসামি দীর্ঘ দিন পলাতক থাকার পর গত ৩ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানের নির্দেশ দেন। তার প্রেমিকা বুবলীও দীর্ঘদিন পলাতক থেকে বুধবার আদালতে আত্মসমর্পন করলে তাকেও জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
ইত্তেফাক/রেজা
