বকশীগঞ্জের সীমান্তে গত ৫ দিনেও থামেনি ভারতীয় বন্যহাতির তাণ্ডব। প্রতিদিন নতুন নতুন গ্রামে হানা দিচ্ছে হাতির পাল। শনিবার রাতে কামালপুর ইউনিয়নের যদুরচর এলাকায় রাতভর তাণ্ডব চালায় হাতি। এ সময় প্রায় ১৫টি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর এবং গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি করে। গত পাঁচ দিনে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও ফসলের ক্ষতি করেছে হাতি।
জানা গেছে, গত পাঁচ দিন আগে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা প্রায় ৫০টি বন্যহাতি উপজেলার সীমান্তবর্তী কামালপুর ইউনিয়নের গারো পাহাড়ের লোকালয়ে প্রবেশ করে। দিনের বেলায় হাতির পাল পাহাড়ের উঁচু টিলায় অবস্থান করলেও সন্ধ্যার পরেই দলবেঁধে সেগুলো নেমে আসে লোকালয়ে। রাতভর বিভিন্ন বসতবাড়িতে চালায়। গ্রামবাসী দলবেঁধে ডাকঢোল পিটিয়ে মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও থামানো যাচ্ছে না হাতির তাণ্ডব। হাতি আতঙ্কে ওই এলাকার মানুষের দিন কাটছে শঙ্কায়, রাত কাটছে নির্ঘুম। সাতানিপাড়া, টিলাপাড়া এলাকায় হামলার পর শনিবার রাতে নতুন করে যদুরচর এলাকায় তাণ্ডব চালায় হাতি। রাতভর বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে ধান, চালসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য খেয়ে বিনষ্ট করে। ঘরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তছনছ করে হাতির পাল।
এ ব্যাপারে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত যদুরচর গ্রামের বাসিন্দা হানিফ মিয়া, হাকিম মিয়া, নুর ইসলাম, মনির ও সফিউল ইসলাম জানান, হাতির ভয়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। তবে হাতি আমাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে। হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা চান তারা।
ধানুয়া কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, হাতির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে সীমান্তের মানুষ। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসান সিদ্দিক জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে। যতদ্রুত সম্ভব সীমান্ত এলাকায় বিদ্যুত্-এর ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি অনুদান দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/নূহু
