সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টায় যারাই জড়িত ছিল না কেন, তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। শনিবার ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের একবছর পূর্তিতে ইস্তাম্বুলের বসফরাস সেতুতে দেয়া এক ভাষণে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। এখানটিতেই অভ্যুত্থানের চেষ্টায় জড়িত সেনাদের হাতে প্রাণ হারান অন্তত ৩৬ জন তুর্কি নাগরিক।
কয়েকটি তুর্কি সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সামরিক অভ্যুত্থানের সমর্থকদের বিচারের সময়ে গুয়ান্তানামোর মতো পোশাক পরতে হবে বলেও দাবি করেছেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, যারা এভাবে দেশকে পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিল, তাদের ‘মাথা কেটে দেবে সরকার’। তার কথায়, ওই অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রকারীরা ‘অবিশ্বাসী।’ দেশের শত্রুরা নির্বিচারে আমাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করেছে।’
IMG0
উল্লেখ্য, সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার সময়ে আঙ্কারা আর ইস্তাম্বুলের আকাশে ছেয়ে যায় যুদ্ধবিমান। রাস্তায় নামে ট্যাঙ্ক। তবে পথে নেমে সেই অভ্যুত্থান রুখে দেয় সব রাজনৈতিক দল। সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে তারাই চ্যালেঞ্জ জানায় বিদ্রোহী সেনাদের সেই অংশকে। তুরস্ক সরকারের দাবি, এই ষড়যন্ত্রের পিছনে ছিলেন ফেতুল্লা গুলেন নামে এক নির্বাসিত নেতা যিনি আমেরিকা নিবাসী হলেও তার অনুগামীর সংখ্যা যথেষ্ট।
IMG1
এই রকম ষড়যন্ত্র ঠেকাতেই মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োজন বলে মনে করেন এরদোয়ান। যদিও রবিবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ জুনকার বলেছেন, ‘তুরস্ক যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য হিসেবে টিকে থাকার পথ নিজেরাই বন্ধ করে দেবে।’ যদিও তুরস্কে ২০০৪ সালে মৃত্যুদণ্ড রদ করা হয়েছিল। তবে তা ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছেন এরদোয়ান।
IMG2
দেশটির কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার থেকেও এখন ভয়ঙ্কর সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। সরকারি চাকরি থেকে হাজার হাজার মানুষকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাছাড়া সরকারি চাকুরে, পুলিশ, সেনা অফিসার, বিচারক, শিক্ষক এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত লোকজনকে প্রায়ই আটক করা হচ্ছে। গত শুক্রবারই অতিরিক্ত সাত হাজার জনকে বরখাস্ত করেছে তুরস্ক সরকার। ১৫০-রও বেশি সাংবাদিক এখন জেলে। তাই ইইউ-এর ১২ বছরের এই সদস্য দেশটি আদৌ কত দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে, উঠেছে সেই প্রশ্নও। বিবিসি।
ইত্তেফাক/সেতু
