মহালছড়িতে পাহাড় ন্যাড়া করে চলছে জুম চাষ

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১৮

পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

 মহালছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা

পাহাড় ন্যাড়া করে চলছে সনাতন পদ্ধতিতে জুম চাষ। ফলে গাছপালা, লতাগুল্মের সাথে উজাড় হচ্ছে বন্যপ্রাণী, কীটপতঙ্গ ও পাখ-পাখালি। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, এসব অবৈজ্ঞানিক কৌশল পাহাড় ধসেরও কারণ। আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কারের কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবেশ। প্রতি বছর মার্চ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে জুম চাষের জন্য নির্বাচিত পাহাড়ে আগুন লাগায় পাহাড়িরা। এরপর মাটি কুপিয়ে চাষের উপযোগী করা হয়। এমনভাবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে জুম পাহাড়ের জুম চাষ।

স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ে এভাবে চাষাবাদের ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। এতে পাহাড়ের ক্ষয় হয়, মাটি উর্বরতা হারায়। বন ধ্বংসের কারণে পাহাড়গুলো নাজুক হয়ে পড়ে। তাই বর্ষা মৌসুমে বাড়ে পাহাড় ধসের শঙ্কা। তবে, পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানেন না বেশিরভাগ জুম চাষি। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে জুম চাষে সচেতন করার পাশাপাশি জুমে বনজ ও ফলদ বাগান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ঠেকাতে জুম চাষিদের আধুনিক পদ্ধতির চাষে প্রশিক্ষিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কৃষি বিভাগ।

মহালছড়ি উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও এ অঞ্চলে প্রায় ১৫/২০ হাজার একর পাহাড়ে জুম চাষিরা অগ্নিসংযোগ করে জুম চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে পাহাড়ে জুম চাষের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ফায়ার লাইন ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে জুম চাষের জন্য পাহাড়ে অগ্নিসংযোগের কারণে এক পাহাড়ের আগুন অন্য পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, পাহাড়ের জুম চাষের আগুনে গাছপালা ধ্বংসের ফলে বন্যপ্রাণীরাও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী।

এ বিষয়ে মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না নাসরিন উর্মির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পাহাড়ে জুম চাষ হয় সেটা জানি। তবে পাহাড়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আগুন দেওয়া নিয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।