চৌহালীতে বাধে আবারো ধস

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৭, ১৩:১৭
 
সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে তীর সংরক্ষণ বাধে আবারো ধস নেমেছে। ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাধে ৭ম বারের মত ধসে খাসকাউলিয়া অংশে ২০ মিটার বিলীন হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ এ ধসের ফলে এলাকা জুড়ে আতংকের সৃষ্টি হয়। বাধ নির্মাণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই কাজ প্রায় সমাপ্তির দিকে যাওয়া বাধটি মূলত ধসের কারণ বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড তথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ধসের পরিধি ঠেকাতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাই সবার মাঝে দেখা দিয়েছে আতংক।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র এবং এলাকাবাসী জানায়, চৌহালী উপজেলা সদরের পৌনে ৪ কিলোমিটার এবং টাঙ্গাইলের সোয়া ৩ কিলোমিটার মিলে ৭ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক ১০৯ কোটি টাকার বরাদ্দ গ্রহণ করে। এই টাকা দিয়ে ভাঙ্গনের রশি টেনে ধরতে নদীর পূর্ব পাড়ের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সরাতৈল থেকে দক্ষিণে নাগরপুর উপজেলার পুকুরিয়া, শাহজানীর খগেনের ঘাট, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ঘোরজানের চেকির মোড়, আজিমুদ্দি মোড়, খাসকাউলিয়া, জোতপাড়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার গত ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর সংরক্ষণ বাধ শুরু হয়। যার ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে হঠাৎ করে মঙ্গলবার ভোরে বাধের চৌহালীর খাসকাউলিয়া অংশে প্রায় ২০ মিটার জুড়ে ধসে যায়। বাধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় পাথরের বোল্ড ও জিও ব্যাগ। আকস্মিক এ ধসে এলাকা জুড়ে সবার মাঝে আতংক দেখা দেয়। দফায়-দয়ায় এমন ভাঙ্গন নির্মাণে স্লপিং কাজে অকার্যকর মাটি নিচে ফেলে ব্লক দেয়া সহ পাথরের চারপাশে ফাকা স্থান গুলো সিমেন্ট দিয়ে পূর্ণ করে না দেয়ায় পানি ঢুকে এই ধস দেখা দিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। চলতি বছরে ৭ দফা ধসে মুল বাধটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাই কাজ নিয়ে অসন্তোষ ক্ষোভ প্রকাশ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
 
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদেকুর রহমান জানিয়েছেন, বাধে বার-বার ধস আসলেই আমাদের অবাক করেছে। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিৎ। আমি ধসের বিষয়টি পাউবো কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা মেরামত করা হবে।
 
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, বার বার ধসে আমরাও বিব্রত। তাই প্রধান প্রকৌশলী ও পাউবো মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি তারা দ্রুত বাধ পরিদর্শন করে কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন।
 
ইত্তেফাক/এমআর