স্পোর্টস রিপোর্টার
শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য ২৩ রান দরকার ছিল শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের। স্ট্রাইকে থাকা দেলোয়ার হোসেন পরের চার বলেই দৃশ্যপট বদলে দিলেন। মোহামেডানের ভারতীয় অলরাউন্ডার রজত ভাটিয়াকে মারেন তিনটি ছক্কা। পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন ১৯ বলে ৩৪ রান করা দেলোয়ার। শেষ ওভারে চার বলে পাঁচ রান তুলে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে শাইনপুকুর।
মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল মোহামেডান-শাইনপুকুর ম্যাচে হয়েছে জমজমাট রানের লড়াই। আগে ব্যাট করে চার হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৯.৩ ওভারে ৩২৪ রান করেছিল মোহামেডান। যদিও ৯ রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়েছিল তারা। ৩২৫ রানের বিশাল টার্গেটটা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় টপকে গেছে শাইনপুকুর। রান তাড়ার মিশনে অবশ্য আফিফ হোসেনই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৪৯.৪ ওভারে আট উইকেটে ৩২৫ রান তোলে দুই উইকেটের অনন্য জয় পায় শাইনপুকুর। নয় ম্যাচে এটি তাদের চতুর্থ জয়। সমানসংখ্যক ম্যাচে মোহামেডানের এটি পঞ্চম হার।
আগে ব্যাট করা মোহামেডানকে ভালো সূচনা এনে দেয় লিটন দাস-ইরফান শুক্কুরের ১০১ রানের ওপেনিং জুটি। ইরফান শুক্কুর ৫০ রান করে ফিরেন। দলীয় ১৫৭ রানে লিটন দাস আউট হন ৮৯ বলে ৮৪ রান করে। দারুণ ভিতের উপর দাঁড়িয়ে অভিষেক মিত্র ৫০, রকিবুল হাসান ৪৮ বলে ৭৪ রানের (১১ চার, ১ ছয়) বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। রানটা তিনশো ছাড়ায় সোহাগ গাজীর ২২ বলে ঝড়ো গতির ৪৫ রানে। তবে শেষ দিকে লোয়ার অর্ডার হুড়মুড়িয়ে ভেঙে না পড়লে মোহামেডানের স্কোরটা আরো বড় হতো। শাইনপুকুরের দেলোয়ার ৪৬ রানে পাঁচটি, অধিনায়ক সোহরাওয়ার্দী শুভ দুটি উইকেট পান।
বড় রান তাড়া করতে নামলেও শাইনপুকুরের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। ১১৭ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। উন্মুক্ত চাঁদ ৪৯, সাদমান ২১, সাব্বির হোসেন ১৭ রান করেন। মিডল অর্ডারে শুভাগত, তৌহিদ হূদয়রা ভরসা হতে পারেননি। তবে একপ্রান্ত আগলে লড়ে গেছেন আফিফ হোসেন। ষষ্ঠ উইকেটে অমিত হাসানের সঙ্গে ১১৮ রানের জুটি গড়েন। যা ম্যাচে ফেরায় শাইনপুকুরকে। অমিত ৪৩ রান করেন। দলীয় ২৬১ রানে নার্ভাস নাইনটিজের শিকার হন আফিফ। ৮৬ বলে ৯৭ রান করেন এই তরুণ।
শেষ দিকে সোহরাওয়ার্দী শুভর অপরাজিত ৩৪, দেলোয়ারের ৩৪ রানে দুর্দান্ত জয় নিশ্চিত করে শাইনপুকুর। মোহামেডানের বেশিরভাগ বোলারই ছিলেন রান দেওয়ায় উদারহস্ত। রজত ভাটিয়া ১০ ওভারে ৮০, শাহাদাত ৭.৪ ওভারে ৭৫ রান দেন। সোহাগ গাজী, রজত ভাটিয়া দুটি করে উইকেট পান। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে শাইনপুকুরের দেলোয়ার ম্যাচসেরা হন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহামেডান : ৪৯.৩ ওভারে ৩২৪ (লিটন দাস ৮৪, রকিবুল ৭৪, ইরফান শুক্কুর ৫০, অভিষেক মিত্র ৫০, সোহাগ গাজী ৪৫, রজত ভাটিয়া ১০; দেলোয়ার ৫/৪৬, সোহরাওয়ার্দী শুভ ২/৭২, টিপু সুলতান ১/৪২, শরীফুল ১/৬৮)
শাইনপুকুর : ৪৯.৪ ওভারে ৩২৫/৮ (আফিফ ৯৭, উন্মুক্ত চাঁদ ৪৯, অমিত হাসান ৪৩, দেলোয়ার ৩৪, সোহরাওয়ার্দী শুভ ৩৪*, সাদমান ২১, সাব্বির হোসেন ১৭, টিপু সুলতান ১*; সোহাগ গাজী ২/৪০, রজত ভাটিয়া ২/৮০, আলাউদ্দিন বাবু ১/৬৫, শাহাদাত ১/৭৫)
ফলাফল : শাইনপুকুর দুই উইকেটে জয়ী
