দারিদ্র্য নির্মূল এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক জাতিসংঘের ‘হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম (এইচএলপিএফ)’র কার্যক্রম শুরু হয় গত ১০ জুলাই। গতকাল ১৯ জুলাই এটি শেষ হলো। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ সম্মেলনে যোগ দেয়।
এইচএলপিএফ এর মূল অংশ ছিল ‘ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ’ বা ভিএনআর সেগমেন্ট। ১৭-১৯ জুলাই পর্যন্ত মন্ত্রীপর্যায়ের এই সেগমেন্টে স্বপ্রনোদিতভাবে বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের ৪৪টি সদস্য রাষ্ট্র স্ব স্ব দেশের এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। বাংলাদেশ এ রিপোর্ট উপস্থাপন করে ১৭ জুলাই অপরাহ্ণে ভিএনআর-এর ৩নং সেগমেন্টে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে এমডিজি বাস্তবায়ন শেষে জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের জন্য এসডিজি প্রণয়ন করে। এমডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমডিজি বাস্তবায়নে তাঁর সরকারের সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘জাতিসংঘ এমডিজি অ্যাওয়ার্ড’সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভিএনআর সেগমেন্টে নেতৃত্ব দেন। “ইরাডিকেটিং প্রোভার্টি এন্ড প্রমোটিং প্রোসপারিটি ইন এ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড শিরোনামে এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক বাংলাদেশের এই জাতীয় রির্পোট উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সরকারের এসডিজি বাস্তবায়নের মুখ্য সমন্বয়কারী মো: আবুল কালাম আজাদ। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তাঁর বক্তৃতায় এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত এবং স্বল্পোন্নত থেকে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর জন্য উদার আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি তিনি স্বল্পোন্নত দেশসমূহ এসডিজি বাস্তবায়নে যে সকল প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে এবং যে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তারা যেন স্বল্পোন্নত দেশসমূহকে আর্থিক, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমান, টেকসই এবং সময়োপযোগী সহযোগিতা প্রদান করে। এলডিসি’র দেশগুলোতে ওডিএ, এফডিআই এবং বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে উল্লেখ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী এক্ষত্রে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিসমূহ পূরণের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ১০ দিনব্যাপী এইচএলপিএফ এর এই অধিবেশনের সার্বিক সমন্বয় করেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের সাথে আরও অংশ নেন পরিকল্পনা কমিশনের জেনারেল ইকোনোমিকস ডিভিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম ও পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল করিম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জিআইইউ এর মহাপরিচালক আবদুল হালিম।
ইত্তেফাক/আনিসুর
