জহুরুল ইসলামের প্রত্যাবর্তন

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৫

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

অথচ এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নাও খেলতে পারতেন জহুরুল ইসলাম অমি।

গত বিসিএলে হাতে চোট পেয়েছিলেন। হাত যে ভেঙে গেছে, সেটা বুঝতে না পেরে ভাঙা হাত নিয়েই বিপিএলের কয়েকটা ম্যাচও খেলে ফেলেছিলেন। আর তাতেই মাঠের বাইরে ছিটকে গিয়েছিলেন। ঢাকা লিগ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে নেটে ফিরতে পেরেছেন। মনে হচ্ছিলো এবার লিগে পারবেন না তিনি। কিন্তু সেই মনে হওয়াটাকেই ব্যাট দিয়ে কেমন উড়িয়ে দিলেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুই করলেন আবাহনীর হয়ে দুরন্ত এক সেঞ্চুরি দিয়ে। তারপর গত ৮টি ম্যাচ স্রেফ ছড়ি হাতে শাসন করেছেন বোলারদের; হয়ে উঠেছেন এখন পর্যন্ত লিগের সেরা ব্যাটসম্যান। দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি নব্বই পার করা ইনিংস খেলেছেন। সবমিলিয়ে অবিশ্বাস্য ৮৭.০০ গড়ে ৫২২ রান নিয়ে এখন পর্যন্ত লিগের সেরা ব্যাটসম্যান সেই অমি। এ যেনো এক রূপকথার মতো ফিরে আসা।

অমির নিজের কাছেও তার এই প্রস্তুতিহীন পারফরম্যান্সকে একটু বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। তবে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মনে করেন, গত কয়েক বছর ধরে তার যে মানসিক পরিবর্তন হয়েছে, তারই ফল এই রান। একসময়ের এই জাতীয় দল তারকা বলছিলেন, ‘আমার তো ঢাকা লিগ খেলার প্রস্তুতিই নেওয়া হয়নি তেমন। টি-টোয়েন্টি লিগটা খেলতে পারিনি। ওয়ানডে লিগ শুরুর কয়েকদিন আগে হাতের ব্যান্ডেজ খুলেছি। তারপরও আমি গত কয়েক মৌসুম ধরেই চেষ্টা করছি, নিজের ব্যাটিংটা ভালো করার। বিশেষ করে আগে যেমন ভালো শুরু পেয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারতাম না, সেটা বদলানোর চেষ্টা করেছি। এখন শুরু পেলে বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করি।’

বড় ইনিংস অবশ্যই খেলতে শিখে গেছেন অমি। তার প্রমাণ এবারের জাতীয় লিগই। চল্লিশ পার করেছেন এবার লিগে পাঁচবার; এর মধ্যে  দুইবার সেঞ্চুরি করেছেন, দুইবার নব্বইয়ের ঘরে গেছেন। যে দুইবার কাছে গিয়েও সেঞ্চুরি পাননি, তা নিয়ে একটু হলেও আফসোস আছে অমির, ‘সর্বশেষ ম্যাচটা (প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে) নিয়ে কিছু বলার নেই। ওখানে আমি সেঞ্চুরির কথা ভাবিনি। দলের জয়টাই বড় ছিলো। কিন্তু ৯৬ রানে যে ম্যাচে (মোহামেডানের বিপক্ষে) আউট হলাম, ওই ম্যাচে সেঞ্চুরি না পাওয়ায় আফসোস আছে। আশাকরি, সামনে আর এই ভুলটা করবো না।’

অমি নিজের সামনে তাকিয়ে ভালো সময়েরই স্বপ্ন দেখেন।

২০১০ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিলো। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৭টি টেস্ট, ১৪টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। খুব ভালো যে করতে পেরেছেন, এই সময়ে তা নয়। তবে অমি মনে করেন, সেই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চরিত্রটা তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। তাই সেভাবে সাফল্য আসেনি। এবার আবার নিজেকে ওই পর্যন্ত নিলে আর একই ভুল করতে চান না, ‘খেলা যেহেতু ছাড়িনি, জাতীয় দলের স্বপ্ন তো আছেই। আমি সুযোগ পাইনি, তা নয়। বেশ সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু তখন আমি অতো দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা বুঝে উঠতে পারিনি। যেটা তামিম বা মুশফিক পেরেছিলো। আমি অনেক ম্যাচে চল্লিশের ঘরে রান করে আউট হয়ে গেছি। এটা বাজে ব্যাপার। আবার কখনো সুযোগ পেলে এই জিনিসটা শুধরে নিতে পারবো।’

 দেখতে দেখতে অমির বয়স হয়ে গেলো ৩২। বাইরের দেশগুলোতে এটা অভিষেকের বয়স হলেও আমাদের দেশে তিরিশ পার হলেও ক্রিকেটারদের ‘বুড়ো’ মনে করা হয়। তাই এই সময়ে নতুন করে জাতীয় দলের লড়াইয়ে ফেরাটা একটু কঠিন, এটা অমি বোঝেন। তাই সরাসরি জাতীয় দল নয়, তার আশা একটা নিয়মিত ‘এ’ দলে খেলার সুযোগ পাওয়া, ‘এখন সিনিয়রদের মধ্যে আমি ছাড়াও তুষার ভাই, নাফীস ভাই, নাঈম নিয়মিত ভালো খেলছেন। আমি মনে করি একটা ‘এ’ দল থাকলে আমাদের জন্য ভালো হতো। আমরা বুঝতে পারতাম, আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত কি না।’

এই চাওয়াটা কেবল অমির নয়; এটা ক্রিকেটের চাওয়া।