বাংলাদেশে ২০২১ সালেই ফাইভ-জি!

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৪

আধুনিক বিশ্ব গত শুক্রবার নূতন এক যুগে প্রবেশ করিল। বাণিজ্যিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় চালু হইল ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক। ফাইভ-জি হইল মোবাইল ইন্টারনেট সেবার পঞ্চম প্রজন্ম। ধারণা করা হইতেছে, এই নেটওয়ার্ক বিশ্বজুড়িয়া চালু হইলে প্রযুক্তি জগতে নূতন বিপ্লব ঘটিবে। ফাইভ-জিতে ফোর-জির তুলনায় কমপক্ষে ২০ গুণ বেশি গতি পাওয়া যাইবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই গতি ১০০ গুণেরও বেশি হইবে! বাংলাদেশেও ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ফাইভ-জি চালু হইবে বলিয়া ঘোষণা দিয়াছেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এত অল্পসময়ের মধ্যে ফাইভ-জি চালু করা বাংলাদেশের জন্য এক অর্থে বিস্ময়কর। এইক্ষেত্রে স্মরণ করা যাইতে পারে যে, বিশ্বজুড়িয়া ২০০১ সালে থ্রি-জি এবং ২০০৬ সালে ফোর-জি চালু হইলেও বাংলাদেশে এই দুইটি সেবা চালু হইয়াছিল যথাক্রমে ২০১২ ও ২০১৮ সালে।

আমরা জানি, ফোর-জির তুলনায় ফাইভ-জি একেবারেই নূতন একটি রেডিও প্রযুক্তি। আমাদের মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা বর্তমান ফোরজি নেটওয়ার্ককেই ফাইভ জিতে উন্নীত করিয়া গ্রাহকদের আরো উন্নত সেবা দিতে চাহিবেন। দ্রুত গতির বিষয়টি নির্ভর করিবে—কোন স্পেকট্রাম ব্যান্ডে ফাইভ জি ব্যবহার করা হইবে এবং মোবাইল কোম্পানিগুলি মাস্ট এবং ট্রান্সমিটারের পিছনে কতটা বিনিয়োগ করিবেন। তবে দুঃখের কথা হইল, দেশে এই মুহূর্তে ফোর-জি নেটওয়ার্ক লইয়া গ্রাহকদের অসন্তুষ্টির শেষ নাই। সমপ্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একটি জরিপ হইতে জানা যায়, দেশের কোনো মোবাইল ফোন অপারেটরই চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) ইন্টারনেট সেবায় নির্ধারিত মাত্রার গতি দিতে পারিতেছে না। এই ব্যাপারে মোবাইল অপারেটররা বলিতেছে যে, বর্তমান অবকাঠামোতে নাকি ইহার চাইতে অধিক গতি দেওয়া তাহাদের জন্য কঠিন ব্যাপার। তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা মনে করেন, ফোর-জির উপযুক্ত ২০ এমবিপিএস গতি পাইতে গেলে কমপক্ষে ৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ প্রয়োজন। অথচ ফোর-জি সেবাদানকারী মোবাইল অপারেটরদের দখলে রহিয়াছে ইহার অর্ধেকের কাছাকাছি তরঙ্গ।

প্রশ্ন হইল, বিদ্যমান চতুর্থ প্রজন্মেই যেইখানে স্বাভাবিক গতি দেওয়া যাইতেছে না, সেইখানে দেড় বত্সরের মধ্যে ফোর-জির চাইতে বিশগুণ গতির অবকাঠামো তৈরি করা কতখানি সম্ভব? ইহা ঠিক যে, লক্ষ্য, অর্থ, নিষ্ঠা ও যত্ন থাকিলে কোনো কিছুই অসম্ভব নহে। কিন্তু এইক্ষেত্রে তাহা কি থাকিবে? এই বিশ্ব এমন এক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মধ্য দিয়া যাইতেছে, যাহারা এই বিপ্লবের স্রোতে যত আগে মিশিতে পারিবে, তাহা তত বেশি অগ্রগামী থাকিবে। জানা গিয়াছে, ২০২০ সালের মধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও হংকংসহ ১১টি দেশ ফাইভ-জির বাণিজ্যিক জগতে প্রবেশ করিবে। আগামী পাঁচ বত্সরে ওই সকল দেশে তারহীন প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল ও বুদ্ধিবৃত্তিক যন্ত্রাংশে সামাজিক উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি পাইবে গড়ে ৪-৮ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়া আশা করিতেছে যে, তাহাদের বর্তমান মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফাইভ-জির মাধ্যমে সংকট কাটাইয়া উঠিবে।

সুতরাং আমরা যে ২০২১ সালের বিজয় দিবসে ফাইভ-জি চালু করিতে চাহিতেছি, সেই জন্য ইহার সহিত সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাধুবাদ জানাইতেই হয়।