সুইডেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ২৪ জুলাই যথাযথ গুরুত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস ২০১৭’ উদযাপন করে। ২৩ জুলাই (রবিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় দিবসটি পরের দিন পালিত হয়। ফলে দূতাবাসের প্রাত্যহিক সেবা গ্রহীতারা দিবসটি উদযাপন অনুষ্ঠানে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারে।
দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব সায়মা রাজ্জাকীর উপস্থাপনায় দূতাবাসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ কনস্যুলার পরিষেবা সম্পর্কে তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং এরূপ পরিষেবার মান বৃদ্ধিতে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স শেখ মোঃ শাহরিয়ার মোশাররফ তার বক্তব্যে দিবসটি উদ্যাপনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে সরকারের অসামান্য সাফল্য এবং এর স্বীকৃতিস্বরুপ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবিধ পুরস্কার ও প্রশংসার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে স্থান পায়। চার্জ দ্য অ্যাফেয়াস টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের দূরদর্শিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এসডিজির ১৬৯ টি লক্ষ্যের মধ্যে ৫৬ টি লক্ষমাত্রা পূর্ণভাবে এবং ১০৩ টি লক্ষ্য আংশিকভাবে অন্তর্ভূক্ত আছে।
চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স জনাব মোশাররফ আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের বিবিধ উন্নয়নমুখী ও জনসেবামূলক পরিকল্পনা ও কর্মসূচী প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ এবং সেগুলিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন -এর প্রতিটি ধাপে জনপ্রশাসনের সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে, সরকারের সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে এবং ইতিবাচক কর্মকান্ডে জনগণকে অধিকহারে সম্পৃক্ত করতে জন প্রশাসনকে তাঁদের গৌরজ্জ্বল ভূমিকা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অধিকতর সৃজনশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। উদ্ভাবনী কর্মকৌশলই নিত্য পরিবর্তনশীল বিশ্বে বাংলাদেশের জন প্রশাসনের সাফল্যের মূলমন্ত্র হতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। সে লক্ষ্যে ‘জনপ্রশাসন পদক’ প্রদান ও ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস’ উদ্যাপনের সিদ্ধান্তকে তিনি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
জনসেবা প্রদানে উদ্ভাবনকে যথাযথ গুরুত্ব প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ দূতাবাস, স্টকহোম, ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস ২০১৭’ উপলক্ষে দূতাবাস কর্তৃক কনস্যুলার পরিষেবা প্রদানকে সুশৃঙ্খল ও মসৃণ করতে সারি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) চালু করেছে। সেবা প্রত্যাশীরা এসেই দূতাবাসে স্থাপনকৃত মেশিন থেকে নম্বর সম্বলিত টোকেন সংগ্রহ করবেন এবং মনিটর-এ তাদের পালা/ক্রম-এর জন্য অপেক্ষা করতে থাকবেন। এ প্রক্রিয়ায় একজন সেবা প্রত্যাশী তালিকায় কত নম্বরে রয়েছেন এবং তার আগে কতজন সেবা প্রত্যাশী রয়েছেন তা জানতে পারবেন। অহেতুক ভুল বুঝাবুঝি নিরসন এবং ধৈর্যশীল প্রতীক্ষার সংস্কৃতি সৃষ্টিতে উদ্যোগটি ভূমিকা রাখবে বলে আগত সেবা প্রত্যাশীরা/দর্শনার্থীরা মত ব্যক্ত করেন।
চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স জনাব শাহরিয়ার মোশাররফ দূতাবাসের কর্মকর্তা/কর্মচারী ও উপস্থিত দর্শনার্থীদের দূতাবাসের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী প্রয়াসের সাথে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি দূতাবাসের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং দর্শনাথীদের নিকট থেকে যে কোন সৃজনশীল ধারণা/পরিকল্পনাকে আগাম সাধুবাদ জানান। সেগুলোর বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই সাপেক্ষে সাদরে গ্রহণ করার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
