চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের দায়িত্ব গ্রহণের তিন বছর শুরু হচ্ছে আজ বুধবার। গত দুই বছরে বিলবোর্ড উচ্ছেদ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, আলোকায়ন, শিক্ষাসহ নানাক্ষেত্রে কমবেশি সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এই মেয়র কষ্ট করে যত সফলতা পেয়েছেন তা এখন পানিতেই ডুবছে। যদিও সফলতা-ব্যর্থতা বিচারের জন্য দুই বছর সময় যথেষ্ট নয় বলে দাবি করছেন চট্টগ্রামের মেয়র।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল নির্বাচিত হয়ে ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শপথ নিয়ে ২৬ জুলাই চসিকের দায়িত্ব নেন নাছির উদ্দীন। নির্বাচনী ইশতেহারে চট্টগ্রামকে ‘জলাবদ্ধতামুক্ত স্বপ্নের মেগাসিটি’ হিসেবে গড়ে তোলাসহ ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নাছির। দুই বছরের সাফল্য ব্যর্থতা সম্পর্কে জানতে চাইলে নাছির বলেন, ‘সাফল্যের কথা বললে নাগরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। আমার সন্তুষ্টি নির্ভর করছে নগরবাসীর উপর। নগরবাসী যদি সন্তুষ্ট থাকে তাহলে আমিও সন্তুষ্ট। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। প্রতিদিন জোয়ারের পানি ঢুকছে। এ কারণে ভালো আছি সেটা বলতে পারি না।’
কী পেয়েছেন নাছির:মেয়র নাছির দায়িত্ব নেওয়ার একমাস পর ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে চসিকের জন্য এক হাজার ৬৩২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এরমধ্যে ৯৭২ কোটি টাকা সরকারি অনুদান প্রত্যাশা করা হলেও সরকারের কাছ থেকে চসিক পেয়েছে ২২৮ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ২৯৫ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্প ও বিশেষ বরাদ্দ প্রত্যাশা ছিল ৯৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। পেয়েছে ১৯৪ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মাত্র। বাকী যেসব অর্থ পাওয়া গেছে সেগুলো বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও খাত থেকে।
জলাবদ্ধতা নিরসন : নাছিরের নির্বাচনী ইশতেহারের এক নম্বর প্রতিশ্রুতি ছিল বন্দর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘোষিত প্রথম বাজেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে ২৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দও রেখেছিলেন। কিন্তু অর্থ সংকটে তা ব্যয় করা যায়নি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি ২৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১৭ কোটি ৫৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ১১৬টি খাল-শাখা খাল থেকে ১৭ হাজার ৯৩৬ ঘনমিটার আবর্জনা ও মাটি উত্তোলন করা হয়। এছাড়া ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নগরের বিভিন্ন নালা নর্দমা থেকে আবর্জনা ও মাটি অপসারণ করা হয়। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪১টি ওয়ার্ডের খাল ও নালা নর্দমা থেকে দুই লাখ ৮০ হাজার ৯০৭ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হয়। বহদ্দারহাটের বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খননে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৩২৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে তিন বছরে সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ মিলেছে মাত্র ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে নতুন খাল খনন প্রকল্প শুরুই করতে পারেনি চসিক। সবমিলিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বপ্ন অধরা থেকে গেছে। নাগরকিরা প্রতিনিয়ত অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শুধুমাত্র চলতি মাসেই পাঁচ দফা পানির নিচে তলিয়ে গেছে বন্দর নগরী।
‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’: আ জ ম নাছিরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি ছিল চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে তিনি ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ কর্মসূচিও নিয়েছেন। আগের মেয়ররা বিলবোর্ড উচ্ছেদে ব্যর্থ হলেও ২০১৬ সালের শুরুতে উপর্যুপরি অভিযান চালিয়ে অন্তত পাঁচ হাজার বিলবোর্ড উচ্ছেদ করে চসিক। যা সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। একই কর্মসূচির আওতায় কর্মসূচির আওতায় ডোর টু ডোর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত : শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে টুকটাক সাফল্য রয়েছে মেয়র নাছিরের। শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিনি ইতিমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, উন্নত পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে নানা জটিলতা নিরসনে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বতন্ত্র স্বাস্থ্য নীতিমালা করা হয়েছে। চসিক জেনারেল হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত, দন্ত বহির্বিভাগ কার্যক্রম ও প্রতিবন্ধী কর্নার চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফি কমিয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হাসপাতালে বিভিন্ন পদে ৭৩ জন কর্মকর্তা, ডাক্তার, কর্মচারি নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
