সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও পড়তে চায়

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৭

সাহিদা সাম্য লীনা

 

রাজধানীর বইমেলা শুরু হবার কিছুদিন পর দেশের জেলা শহরগুলোতেও বইমেলা হয়। তেমনি ফেনী বইমেলায় প্রতিবার একটা দৃশ্য আমার নজর কাড়ে! স্টেশনের অসহায় শিশুদের মেলায় এসে বই কেনার দৃশ্য! কখনো তারা দলবেঁধে আসে! কখনোবা একা বা দোকলা হয়ে। এবার মেলায় দেখলাম দুই বোনকে। একটার বয়স পাঁচ বছরের বেশি হবে না। আরেকটা চার বছর বয়সের। অর্থাত্ পিঠাপিঠি দুটো শিশু। দেখলাম, মনোযোগী আমাদের এই আগামী প্রজন্মকে। কেমন যেন আশ্চর্য হয়ে স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছে। এক বোন নিচে মাটিতে বসে খেলছে। আর অপর জন খুব মনোযোগ দিয়ে বইয়ের পাতা উলটিয়ে দেখছে। একজন খুদে পাঠক। বর্ণমালার সুন্দর একটি বইও কিনে ফেলেছে সে।

অভিভাবক ছাড়াই ওরা আসতে পারে বইমেলায়। বাবা নেই। মা আছে। জানলাম, মা কাজে গেছে। এসময় দুবোন বেরিয়ে পড়ে। ওরা রাত হোক, দিন হোক অভ্যস্ত এরকম চলাফেরায়। মায়ের কোনো টেনশন নেই। ওরা থাকে রেলস্টেশনে। জন্মও ওখানে। ওদের জন্মদাতাকে নিয়ে আমাদের অনেক প্রশ্ন থাকলেও তাতে কী ওদের? ওরা নিষ্পাপ!  দুবোন এক বাবারও না। কিন্তু মা একটা। যে মায়ের কোলজুড়ে এসে তারা পৃথিবী দেখেছিল। যে মা সারা দিন মাথার ঘাম পায়ে ঠেলে দুটি সন্তানের আহারের জন্য রাত্রিবেলায়ও ছোটে। আহা জীবন! সন্তান তার জমানো টাকায় বইমেলায় এসে বই কিনছে, এরকম প্রতি বছরই ঘটে। এটা অচেতন পাঠকের জন্য এক রকম শিক্ষা। জানতে চাইলাম, তুমি যে বই কিনেছ টাকা কোথায় পেয়েছ? বলল, ‘স্টেশনে সারা দিন খুঁইজ্জা নিছি!’ মানে স্টেশনে যাত্রীদের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে যা পায় তাই নিয়ে ছুটে এসেছে বইমেলায়!

আমরা কত না আমাদের দিন নিয়ে, ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাবি। আর ওদের এমন কোনো ভাবনা নেই। শুধু তিনবেলা আহার ওদের কাম্য। পরনের কাপড় নিয়ে ওদের ভাবনাটা ফিকে হয়ে পড়ে, যখন জন্মদাত্রীর মুখে অসহায় বেদনা ফুটে ওঠে। ভাত খাবি না পরবি?

ওদের অবুঝ মনেও তা বিঁধে যায়! একসময় আর ওদের চাওয়ার কিছু থাকে না। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুগুলো চায় একটু পড়তে, অ আ বর্ণমালায় নিজেদের সাজাতে।

ঢাকা