ভরা বর্ষায় চড়া সবজির দাম

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৭, ২০:২৩
কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির ফলে দেশের অনেক অঞ্চলেই ব্যাপক হারে কমেছে সবজির উত্পাদন। এতে বাড়ছে সবজির দামও। বুধবার বর্ষণের মাত্রা খুব বেশি থাকায় রাজধানীর বেশিরভাগ খুচরা সবজি বাজারের মধ্যে হাঁটু পানি ছুঁই-ছুঁই ছিল। সেই হাঁটু পানি মাড়িয়ে ক্রেতারা যখন সবজির দাম জিজ্ঞেস করছেন তখন আরেক দফা হোঁচট খাচ্ছেন। এক কেজি টমেটোর দাম ১৫০ টাকা! ৮/১০দিন আগেও যা ছিল ১’শ টাকা কেজি। করলা, বেগুন, চিচিঙ্গা, কঁচুমুখীসহ প্রায় সব ধরনের সবজির কেজিই ৪০ টাকার উপরে।
 
বুধবার রাজধানীর কাওরানবাজার ও শান্তিনগর বাজারে সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন ধরনের সবজির দামের এ চিত্র পাওয়া যায়।
 
ব্যবসায়ীরা জানান, এখন ভরা বর্ষা মৌসুম। ইতোমধ্যে বন্যায় উত্তরাঞ্চলের অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে চাহিদামতো সবজির সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। সবজির উত্পাদন কম হচ্ছে। এছাড়া রাস্তাঘাটেও যানজটের কারণে বাজারে সময়মতো সবজির ট্রাক পৌঁছাতে পারছে না। এর প্রভাব পড়েছে সবজির দামের উপর।
 
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারভেদে প্রতি কেজি করলা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কচুমুখি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। যা সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিভেদে কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি। এছাড়া আলু কেজিতে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। বৃষ্টির কারণে বেড়েছে কাঁচামরিচের দামও। একদিনের ব্যবধানে কেজিকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। তবে সবচেয়ে বেশী বেড়েছে টমেটোর দাম। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।
 
কাওরানবাজারে বাজার করতে আসা কবির হোসেন বলেন, সব ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষদের। একদিকে বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় কষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে বর্ষার কারণে সবজির দাম বেড়ে গেছে।
 
এই বাজারের পাইকারী সবজি বিক্রেতা আয়নাল বলেন, বর্ষায় অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের বন্যায় সবজি ক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ফলে সবজির দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা মওসুমে সবজির দাম কিছুটা বাড়ে। বৃষ্টি কমলেই অবস্থার উন্নতি হবে বলে তিনি জানান।
 
এদিকে বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামও চড়া। বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে প্রতি কেজি রুই, কাতল আকারভেদে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৭০ টাকা, চাষের কই ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগীর ও গরুর মাংসের। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়। অন্যদিকে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫’শ টাকায়। যা আগের দরের চেয়ে কেজিতে ২০ টাকা বেশী। মাংস ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোরবানী ঈদ এগিয়ে আসায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীতে দেশী গরু আসা কমে গেছে। কোরবানী ঈদে বেশী দামের আশায় গরু বিক্রেতারা গরু বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ভারতীয় গরুর সরবরাহ কম থাকায় মাংসের দাম বেড়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, গাবতলী পশুর হাটের ইজারাদাররা নির্ধারিত খাজনার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করছেন। এ কারণে প্রতিটি গরুর জন্য বাড়তি পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। এই বাড়তি অর্থ গরুর দামের সাথে যোগ হচ্ছে। ফলে মাংসের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/এএম।