বগুড়ায় পল্লী জনপদ প্রকল্পের ২ কোটি টাকা আত্মসাত্
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
সরকারের ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকসহ (ডিজি) ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার বগুড়ার শেরপুর থানায় এ মামলা করেন।
মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন, আরডিএ’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এম এ মতিন, পল্লী জনপদ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মাহমুদ হোসেন খান, প্রকল্পের পরিচালক নজরুল ইসলাম, উপ-প্রকল্প পরিচালক আবিদ হোসেন মৃধা, দুই সহকারী প্রকল্প পরিচালক শেখ শাহরিয়ার ও আরিফ হোসেন জুয়েল এবং হিসাব রক্ষক রুনিয়া ইয়াসমিন। আসামিদের বিরুদ্ধে ‘পল্লী জনপদ’ সরকারের ২ কোটি ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় এক নম্বরে থাকা এম এ মতিন কিছু দিন আগে পিআরএল-এ চলে গেছেন এবং দ্বিতীয় আসামি মাহমুদ হোসেন খান নির্ধারিত সময়ের আগেই চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করছেন। অন্যরা এখনো কর্মরত। বগুড়ার শেরপুর থানার ওসি হুমায়ূন কবির জানিয়েছেন, এম এ মতিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। মতিনকে তার সম্পদের বিবরণী দুদকে দাখিল করতে বলা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি তা করেন নি।
বসতবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে যাতে ফসলি জমি নষ্ট না হয় সেজন্য গ্রাম পর্যায়ে সরকারিভাবে স্বল্প খরচে ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে ২০১৪ সালের ১ জুলাই ‘পল্লী জনপদ’ নামে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়। দেশের ৭টি বিভাগের অধীন সাত জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বগুড়ায় অবস্থিত সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরডিএ-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মামলার বাদী আমিনুল ইসলাম জানান, রাজশাহী বিভাগের জন্য বগুড়ায় আরডিএ কার্যালয়ের অদূরে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের জামালপুর মৌজায় ৩ দশমিক ৭৫ একর জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি প্রকল্পের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের কথা থাকলেও প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা মানেননি। স্থানীয় কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ২০১৫ সালের ৩০ জুন সম্পাদিত দলিলে প্রকৃত মূল্যের চাইতে দ্বিগুণের বেশি দাম দেখানো হয়। এভাবে আরডিএ’র মহাপরিচালকের (ডিজি) নামে জমি কিনতে গিয়ে সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাত্ করা হয়। এ নিয়ে সেসময় কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলে দুদক তদন্ত শুরু করে। এক্ষেত্রে তারা অবৈধভাবে জমির শ্রেণিও পরিবর্তন করেছেন। এমনকি ৩ দশমিক ৭৫ একর জায়গা কেনার কথা থাকলেও তারা ৫ দশমিক ৬৭ একর জমি কিনেছেন।
তিনি আরো জানান, অনুসন্ধানকালে জমি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কাছ থেকে প্রতি শতক জমি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দরে কেনা হলেও দলিলে তার দাম ১ লাখ ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। বগুড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ওই পরিমাণ জমির সরকারি অধিগ্রহণ মূল্য জানতে চাইলে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পল্লী জনপদ প্রকল্পের জন্য কেনা ৫ দশমিক ৬৭ একর জমির অধিগ্রহণ মূল্য আনুষঙ্গিক খরচসহ ৫ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৪৭৮ টাকা ৪২ পয়সা। অথচ আসামিরা তা কিনেছেন ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৩১ হাজার ৪০০ টাকায়। এর ফলে তারা সরকারের ২ কোটি ৫ লাখ ৬ হাজার ৯২২ টাকা আত্মসাত্ করেছেন।
