ফ্যাশনে নারীর নতুন অনুষঙ্গ ‘হিজাব’। এটি মূলত মুসলিম নারীদের পর্দার কাজে ব্যবহূত হলেও বর্তমানে হিজাব ফ্যাশন হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেকে। হিজাবের প্রচলন ইরান, সৌদির মতো ইসলামী দেশগুলো থেকে। আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে হিজাবের প্রচলন শুরু হয়েছে ২০০০ সাল থেকে। দেশে ইন্টারনেটের সহজ ব্যবহারের ফলে বহির্বিশ্বের ফ্যাশন জগত্ এখন নারীর হাতের মুঠোয়। ফলে নারীরা নিজেদের কিভাবে সাজাবে তা নিজেই ঠিক করে নিচ্ছে।
বর্তমানে হিজাবের ব্যবহার রূপসচেতন নারীদের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ এর রয়েছে নানা উপকারী দিক। নারীরা ভাবছে বাইরের দূষণ থেকে কিভাবে চুল-ত্বক সুরক্ষা পাবে। এজন্য আধুনিক নারীরা সহজেই হিজাবের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। একটা সময় শুধু পর্দার জন্যই হিজাব পরা হতো। তবে সময় এখন পাল্টে গেছে। তাই হিজাবের পরিচিতি এখন ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে।
নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রথমা বলেন, বাইরের ধুলাবালি থেকে ত্বক ও চুলের সুরক্ষা দিতে এর তুলনা হয় না। হিজাব পরলে চুল ঠিক করার ঝামেলা থাকে না। যে কোনো পোশাকে সুন্দর করে হিজাব পরলে অল্পতে জমকালো সাজ হয়ে যায়। তাছাড়া শাড়ি, কামিজ, কুর্তা বা অন্য যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই হিজাব পরা যায়। হিজাবের সঙ্গে ফুল স্লিভের পোশাক পরতে হয়। এতে রোদে পোড়া থেকে হাতের ও মুখ উভয়ে ত্বক সুরক্ষা পায়। নারী উদ্যোক্তা পারুল আক্তার বলেন, আমি হজ করেছি অনেক কম বয়সে, সে কারণেই হিজাবটা পরছি।
বর্তমানে বয়স্ক থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েরাও হিজাব পরছে। ফলে এর ডিজাইন ও রঙেও লেগেছে আধুনিক ফ্যাশনের ছোঁয়া। লাল-নীল-হলুদ-সবুজ কিংবা হাল্কা যে কোনো রঙের হিজাব পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরছেন নারীরা। হিজাবের সৌন্দর্য বাড়াতে তাতে যুক্ত হচ্ছে স্টোন, পুঁতি, চুমকি, লেইস কিংবা আরো অনক ধরনের কারুকাজ। যে কোনো মার্কেটে হিজাব অনায়াসে পাওয়া যায়। এর দাম ৫০ থেকে শুরু করে দুই আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। যারা নতুন হিজাব পরতে শুরু করেছেন, তাদের জন্য ইউটিউবে আছে অসংখ্য টিউটরিয়াল। এগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে হিজাব পরতে সহায়তা করছে। তাছাড়া বিউটিপার্লারেও রয়েছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা। যারা বিভিন্ন স্টাইলে হিজাব পরিয়ে দেন।
