তিন লাখ কোটি টাকার ডিভোর্স

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৫৪

একসঙ্গে একই ফার্মে চাকরি, পরিচয়, ভালবাসা এবং পরের বছর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ। তখন তাদের খুব কম মানুষই চিনতো। বিয়ের এক বছর পর অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত প্রচুর অর্থ উপার্জন। এটা গল্প নয়, সত্যিই যাদের ভাগ্যে জুটেছিল তারা হলেন জেফ বেজোস এবং ম্যাকেনজি বেজোস। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী বেজোস বিশ্বের শীর্ষ ধনী। তাইতো তারা বিয়ের সময়টা চিন্তা করেননি। বিচ্ছেদে বর্তমান সম্পদই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

প্রেমের বিয়ের বিচ্ছেটাও ঘটেছে ‘ভালবাসা’র নির্দশন দিয়ে। একে অপরকে ছাড় দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। বেজোস স্ত্রীকে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা দিচ্ছেন। তেমনি ম্যাকেনজিও দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা স্বামীকে ছেড়ে দিয়েছেন। আবার তারা একে অপরের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে বন্ধু হিসেবে থাকারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। শীর্ষ ধনীর দামি ডিভোর্সটা তাই স্মরণীয় হয়েই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো ধনী দম্পতির বিচ্ছেদেও পড়বে এর প্রভাব।

বৃহস্পতিবার টুইটারে এক যৌথ বিবৃতিতে বেজোস এবং ম্যাকেনজি তাদের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানান। বেজোস (৫৫) বিচ্ছেদের মূল্য হিসেবে ম্যাকেনজিকে (৪৮) প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা দিচ্ছেন। এই অর্থ ম্যাকেনজিকে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ধনী নারীর তালিকায় যুক্ত করবে। বেজোস এবং ম্যাকেনজি জানিয়েছেন, অনলাইনে কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের মালিকানা নিয়ে আর চিন্তা নেই। তারা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সমর্থ হয়েছেন। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে অ্যামাজনের মোট মূলধনের পরিমাণ ৮৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বেজোসের মালিকানায় আছে ১২ ভাগ। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের মালিক হচ্ছেন ম্যাকেনজি। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা যা বাংলাদেশের বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি। যদিও অ্যামাজনে ভোটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে বেজোসের হাতে। ম্যাকেনজি মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট এবং রকেট কোম্পানি ব্লু অরিজিনের স্বত্ত্ব ত্যাগ করেছেন। ২০০০ সালে ব্লু অরিজিন প্রতিষ্ঠা এবং ২০১৩ সালে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা কিনে নেন বেজোস।

৯০ দিনের মধ্যেই বিচ্ছেদ

ম্যাকেনজি বেজোস টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি খুবই আনন্দিত যে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ করতে সমর্থ হয়েছেন। আর বেজোস স্ত্রীর প্রশংসা করে জানিয়েছেন, ম্যাকেনজি তার খুবই ভাল সঙ্গী, বন্ধুত্ব এবং সন্তানদের মা ছিলেন। তারা দুইজনই ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা এখন হবেন পরস্পরের বন্ধু এবং ব্যবসায়িক অংশিদার। কেউই বিচ্ছেদের অর্থ নিয়ে মন্তব্য করেননি। তবে অ্যামাজন জানিয়েছে, কোম্পানিতে বেজোসের সম্পদের চার ভাগ শেয়ারের মালিক হবেন ম্যাকেনজি। আদালত বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া অনুমোদনের পর আগামী ৯০ দিনের মধ্যেই এই বিষয়টির ফয়সালা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৯২ সালে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে ডি.ই ফার্মে কাজ করেছিলেন বেজোস এবং ম্যাকেনজি। এখান থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৯৩ সালে ঔপন্যাসিক ম্যাকেনজির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বেজোস। তাদের চারটি সন্তান। গত জানুয়ারিতে বেজোস দম্পতি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বেজোসের একটি প্রেমের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। - ডেইলি মেইল ও রয়টার্স