কন্ডাক্টরকে পালাতে বলে নিজেও পালিয়েছিলেন বাস মালিক

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৮

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) ছাত্র আবরার চৌধুরীকে প্রগতি সরণিতে চাপা দিয়ে হত্যার আগে আরো একটি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি। গুলশানের শাহজাদপুর বাঁশতলা এলাকায় মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে ধাক্কা দেওয়ার পর যাত্রীরা চালক সিরাজুলকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর বাস মালিক ননী গোপাল সরকার মোবাইল ফোনে কন্ডাক্টর ইয়াছিন আরাফাতকে বাসটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরামর্শ দেন। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় সুপ্রভাত পরিবহনের ঘাতক বাসটির মালিক ননী গোপাল সরকার। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গতকাল শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ননী গোপালকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। এর আগে গ্রেফতার হয় বাসটির চালক সিরাজুল ইসলাম। পরবর্তীতে গ্রেফতার হয় কন্ডাক্টর ইয়াছিন আরাফাত ও হেলপার ইব্রাহিম হোসেন। তারা ইতোমধ্যে আদালতে দায় স্বীকার করেছে। বাসের মালিক ননী গোপালের নির্দেশে সেদিন বাস চালিয়েছিল মর্মে জবানবন্দি দেয় কন্ডাক্টর ইয়াছিন।

ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই বাসটি আড়াই বছর আগে কিনেছেন ননী গোপাল সরকার। তবে এখনও মালিকানা পরিবর্তন করেননি তিনি। বাসটির রুট পারমিট ছিল ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তবে সুপ্রভাত কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে এই ব্যানারে বাসটি সদরঘাট থেকে গাজীপুরা রুটে চলাচল করত। আবরারকে চাপা দেওয়ার আগে সেদিন আরো একটি দুর্ঘটনা ঘটায় বাসটি। প্রথম দুর্ঘটনার পর ভিকটিমের চিকিত্সার ব্যবস্থা করা তাদের (বাস কর্তৃপক্ষের) দায়িত্ব ছিল। কিন্তু বাসের মালিক ননী গোপাল কন্ডাক্টরের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই জানার পরও তাকে বাসটি নিয়ে পালিয়ে যেতে বলেন। এরপর বাসটি নিয়ে দ্রুত সরে পড়ার সময় আবরারকে চাপা দেয় কন্ডাক্টর ইয়াছিন আরাফাত।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ সকালে নর্দ্দার প্রগতি সরণিতে সুপ্রভাত বাসটির চাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার নিহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হয়।