আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আব্দেল আজিজ বুতেফলিকার পদত্যাগের পরও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, সরকারের আরো তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে পদত্যাগ করতে হবে। না হলে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। এই বিক্ষোভে চাপে পড়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। খবর ডেইলি মেইল ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভের মুখে মঙ্গলবার অবশেষে পদত্যাগ করেন ৮২ বছর বয়সী আব্দেল আজিজ বুতেফলিকা। দেশটির সাংবিধানিক পরিষদ প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের এক নেতা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগই সবকিছু নয়। কারণ তার ঘনিষ্ঠরা সরকারে রয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা অন্তত ‘থ্রি বি’র পদত্যাগ চেয়েছেন। এরা হলেন-পার্লামেন্টের স্পিকার আব্দেলআকদের বেনসালাহ, ১৭ বছর ধরে মন্ত্রী পদে থাকা তায়েব বেলায়েজ এবং প্রধানমন্ত্রী নওরুদ্দিন বেদুই। বেলায়েজ আগামী নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করবেন। প্রেসিডেন্টই তাকে এই ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তাদের পদত্যাগের দাবিতে গতকালও রাজধানী আলজিয়ার্সে বিক্ষোভ হয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।
আলজেরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বুতেফলিকার সম্পর্ক খুবই ভাল ছিল। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে সেনাবাহিনীও প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের আহবান জানায়। কিন্তু সেনাবাহিনী সংবিধান মোতাবেক চলতেই পছন্দ করে বলে জানায়। সংবিধান অনুযায়ী বাকিদের পদত্যাগের সুযোগ নেই। কিন্তু বিরোধীরা বলছেন, বুতেফলিকার ঘনিষ্ঠরা সরকারে থাকলে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। তাই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলবে। নতুন করে বিক্ষোভে চাপে পড়েছে সেনাবাহিনী। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দেলআলী রাজাগুয়ি বলেছেন, সেনাবাহিনী সংবিধান মেনে কাজ করতে চায়। সেটি করলে এখন যারা আছেন তারাই আগামী নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করবেন। ফলে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হবে না। এজন্য বিরোধীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
