দিয়াজ হত্যার বিচার দাবিতে চবিতে ছাত্রলীগের মানববন্ধন

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৭, ২২:৫১
 
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে অস্তিত্বে ৭১ ব্যানারে ছাত্রলীগের একাংশ। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন করে তারা।
 
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দিয়াজ শুধু একটি নাম নয় সে ছাত্রলীগের আদর্শও বটে। তার মত একজন ছাত্রনেতা বর্তমান সময়ে খুঁজেপাওয়া খুবই কঠিন। সে অত্যন্ত মেধাবী ও পরিছন্ন একজন ছাত্রনেতা ছিলেন। তার ব্যবহার সহজেই সবাইকে মুগ্ধকরত, সে ছিল সৎ, ধৈর্যশীল ও সাহসিকতার মূর্তিমান প্রতীক। ঘাতকরা দিয়াজকে হত্যা করলেও তার আদর্শকে কি কখনও পারবে হত্যা করতে। যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হত "শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট" দিয়াজের সাহসী নেতৃত্বে চবি থেকে শিবির মুক্ত করে ছাত্রলীগের শক্তিশালী ইউনিটে পরিণীত করেছে। সেই দিয়াজকেই ঘাতকরা রাতের আধারে শ্বাসরোধকরে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেয়।
 
এসময় তারা আরও বলেন, দিয়াজ হত্যার বিচার দ্রুত করতে হবে। নইলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। আজ যদি দিয়াজ হত্যার বিচার না হয় তাহলে কাল আরও একজনকে দিয়াজ হতে হবে, আর বাড়তে থাকবে একজন ছেলেহারা মায়ের আর্তনাদ, ভারি হতে থাকবে ভাই হারা বোনের দীর্ঘশ্বাস।
 
মানববন্ধনে চবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, আমি বুঝতেছিনা আমরা দিয়াজ হত্যার বিচার চাইলে আপনাদের এত ভয় লাগে কেন। আমাদের সবার উচিত গ্রুপ, দল বিভেদে দিয়াজ হত্যার বিচার দাবি করা। ছেলে হারা মায়ের ছেলে হিসেবে, ভাই হারা বোনের ভাই হিসেবে আমাদের সবার উচিত দিয়াজ হত্যার বিচার দাবি করা। যাতে করে পরবর্তীতে আর কোন মায়ের কোল খালি না হয়।
 
এদিকে দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর আত্মহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পিত ভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এমনটি ওঠে আসে দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে।
 
এর আগে প্রথম ময়নাতদন্তে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করা হয়, যা প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের পরিবার। দিয়াজের বোন আইনজীবী জুবাইদা সারোয়ার চৌধুরী তখন অভিযোগ করে বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরির সময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতিতে এক নেতার নির্দেশে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত করা হয়েছে।
 
খুন করে দিয়াজকে  ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে গত ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার দের আদালতে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। আর আদালত এই মামলার প্রেক্ষিতে তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিআইডির উপর। এরপর তদন্তের দায়িত্বে আসা সিআইডি পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন জানালে চট্টগ্রামের বিচারিক হাকিম শিপলু কুমার দে তাতে সায় দেন এবং  ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষকদের দিয়ে তা করাতে নির্দেশ দেয় আদালত। তার প্রেক্ষিতে দাফনের ২০ দিন পর দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর লাশ কবর থেকে তোলা হয়।
 
ইত্তেফাক/জামান