ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, কংগ্রেসের নির্বাচনী ইশতেহার হলো ছল-চাতুরীর দলিল। তাদের মূল এজেন্ডা হচ্ছে, আমাকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। গতকাল শুক্রবার উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে রাফায়েল কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত হবে। ‘চৌকিদার’কে জেলে যেতে হবে। প্রসঙ্গত, নরেন্দ্র মোদি নিজেকে চৌকিদার বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, আসামে জাতীয় নাগরিক তালিকা— এনআরসি করে বিজেপি মুসলমান, হিন্দু, গোর্খাদের নাম বাদ দিয়েছে। ডিটেনশন ক্যাম্পে শিশু, মহিলাদের আটকে রেখে অত্যাচার করছে। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস আসাম জয় করবে। দিল্লির ক্ষমতা থেকেও বিজেপি সরকারকে উত্খাত করে আসামের মানুষকে রক্ষা করবো। বৃহস্পতিবার আসামের ধুবরিতে এক জনসভায় এ কথা বলেন মমতা।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে সাত দফার ভোট গ্রহণ ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির সবখানে এখন নির্বাচনী আমেজ। গতকাল উত্তর প্রদেশে বেশ কয়েকটি জনসভায় ভাষণ দেন মোদি। কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে আলোচনা পছন্দ করে তারা। কংগ্রেসের সঙ্গীরা কাশ্মিরের আলাদা প্রধানমন্ত্রী চাইছে।
নরেন্দ্র মোদিকেও আক্রমণ করে ভাষণ দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। নাগপুরে তিনি বলেন, রাফায়েল যুদ্ধ বিমান চুক্তি নিয়ে তদন্ত হবে। ‘চৌকিদার’কে জেলে যেতে হবে। পুনেতে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে রাহুলকে প্রশ্ন করা হয়, রাজনৈতিক নেতাদের ‘বায়োপিক’ হচ্ছে। আপনার বায়োপিকের নায়িকা কে? জবাবে রাহুল বলেন, কাজকে বিয়ে করেছি।
এদিক আসামের ধুবড়িতে এক জনসভায় মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, আসাম-বাংলার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এনআরসি খসড়ায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে বিজেপি। ২২ লাখ হিন্দুর নাম বাদ দিয়েছে। উদ্বাস্তুদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। নাগরিকত্ব বিলের নামে দেশ ছাড়া করার পরিকল্পনা করছে তারা। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে আসামে ১০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আসামবাসীর উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, কংগ্রেস-বিজেপিকে দেখেছেন, একবার তৃণমূলকে ভোট দিয়ে দেখুন। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে দুই টাকা কেজিতে চাল দেয়। বিনা পয়সায় চিকিত্সা সেবা দেয়। আসাম সরকার কী করে? শুধু তৃণমূল কংগ্রেসই পারে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে।
অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ড চপার কেলেঙ্কারিতে কোণঠাসা কংগ্রেস
ভিভিআইপি অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ড চপার কেলেঙ্কারিতে আরো কোণঠাসা হচ্ছে কংগ্রেস। কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত তথা মিডলম্যান ক্রিশ্চিয়ান মিশেলের একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যকে ঘিরে নির্বাচনের আগে চাপে পড়েছে দলটি। সম্প্রতি এই কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত চতুর্থ চার্জশিট জমা দিয়েছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্র জানায়, চার্জশিটে ‘এপি’ নামের এক শীর্ষ কংগ্রেস নেতার নাম উল্লেখ করেছেন মিডলম্যান ক্রিশ্চিয়ান মিশেল। কে এই কংগ্রেস নেতা? সেই প্রশ্নকে ঘিরেই তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা। একাংশের মতে, সন্দেহভাজন এই ‘এপি’ হলেন ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর রাজনৈতিক পরামর্শদাতা আহমেদ প্যাটেল। দেরাদুনে এক বক্তৃতায় মোদি ‘এপি’ মানে বলেছেন আহমেদ প্যাটেল।
পরোক্ষভাবে মোদির সমালোচনায় আদভানি
পরোক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদির সমালোচনা করেছেন বিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা লালকৃষ্ণ আদভানি। পাঁচ বছর পর নিজের ব্লগে এক পোস্টে আদভানি লিখেছেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের মূলভিত্তি হলো বৈচিত্র্য এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন। যারা রাজনৈতিকভাবে আমাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিজেপি কখনোই তাদেরকে শত্রু বলে বিবেচনা করেনি। যারা আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে না আমরা তাদের জাতীয়তাবিরোধী বলিনি। কিন্তু সেসব হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মোদি-অমিত শাহেরা গত পাঁচ বছর ধরে আদভানিকে যেভাবে উপেক্ষা করেছেন, যেভাবে দীর্ঘদিনের জেতা গান্ধীনগর আসন থেকে তাকে প্রার্থী না-করে কার্যত অবসরে যেতে বাধ্য করেছেন, তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন আদভানি। কিন্তু এতোদিন মুখ খোলেননি তিনি। এদিকে আটবার একই আসন থেকে জেতা স্পিকার সুমিতা মহাজন জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না তিনি। কারণ এখন পর্যন্ত ওই আসনে তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করেনি বিজেপি।
