দুর্যোগপ্রবণ জেলাগুলোতে ২ কোটি শিশুর বাস

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৯

বাংলাদেশের দুর্যোগপ্রবণ জেলাগুলোতে বসবাস করছে প্রায় দুই কোটি শিশু। এর মধ্যে প্রায় সোয়া কোটি শিশু নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ও তার কাছাকাছি স্থানে বসবাস করে। এরা ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুযোর্গের হুমকিতে রয়েছেন। অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পরিবারের সঙ্গে শহরমুখী হচ্ছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলায় আরও বেশি করে উদ্যোগী হতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন   সিমন ইনগ্রাম। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শহরগুলোতে প্রায় ৬০  লাখ জলবায়ু উদ্বাস্তু রয়েছে। বন্যার কারনে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে প্রায় প্রতিবছরই এ ধরনের উদ্বাস্তুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ২০১৭ সালে এদেশে সর্বশেষ বড় ধরনের বন্যা হয়েছিলো। ইনগ্রাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কারনে যে শুধু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে তাই নয়, এর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ  এবং বিশুদ্ধ পানি ও পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়ছে। বন্যাপ্রবণ এলাকার স্কুল ও স্বাস্থ্য কেন্দ গুলোকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ শিশুদের ওপর যেন কোনও শোষণ-নিপীড়ন না হয় তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ৪৫ লাখ শিশুর বাস। তাদেরকে সাইক্লোন বা টর্নেডো হুমকিতে থাকতে হয়। এসব ঝুঁকির কারনে গ্রাম এলাকার মানুষেরা শহরের দিকে ধাবিত হতে বাধ্য হচ্ছে। আর সেখানে যাওয়ার পর নতুন ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিশুদেরকে। অধিকাংশ পরিবার আর্থিক সমস্যার কারনে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে। অনেক শিশু কাজে যাচ্ছে। এছাড়া খরার ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৩০ লাখ শিশু।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশেল কারনে গর্ভবতী নারীরাও বড় ধরনের হুমকিতে রয়েছেন। সেখানকার বিশুদ্ধ পানির সঙ্গে লবণাক্ত পানি মিশে যাচ্ছে এবং গর্ভবতী নারীরা প্রি-এক্লেমশিয়া ও হাইপারটেনশনসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন। সংস্থাটি বলছে, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য হুমকি থেকে দরিদ্রদেরকে বাঁচাতে এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ  নির্মাণসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের হুমকিতে থাকা শিশুদের সুনির্দিষ্ট চাহিদার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে বাংলাদেশকে আহবান জানিয়েছে ইউনিসেফ।