বনানীর এফ আর টাওয়ারের আট তলার (লেভেল-৭) স্পেক্ট্রা এস এন টেক্সটাইলের অফিসের তিন কর্মচারীকে খুঁজছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই তিন কর্মচারী অগ্নিকাণ্ডের দিন অফিসে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে কিভাবে সূত্রপাত হয় এবং কি কারণে ঘটনাটি ৩০/৪০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়— এসব কারণ খুঁজতে এই তিন কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এরই মধ্যে স্পেক্ট্রা এস এন টেক্সটাইলের মালিক সেলিম উল্লাহ ও তার ছেলে সাকিব আত্মগোপন করেছেন। সেলিম উল্লাহ ও সাকিবকে আটক করতে বুধবার ডিবি পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধণ গতকাল বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করতে ফায়ার সার্ভিস বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দী নিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা পোড়া আলামতগুলোও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ শর্ট সার্কিট হিসেবে শনাক্ত করা হচ্ছে। তবে বিষয়টির আরো তদন্ত হচ্ছে। এই তদন্ত রিপোর্ট সোমবার নাগাদ জমা দেওয়া হতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, এফ আর টাওয়ারের আট তলায় স্পেক্ট্রা টেক্সটাইলের স্টোর রুম রয়েছে। স্টোর রুমে টেক্সটাইল কারখানায় ব্যবহূত কেমিক্যালের নমুনা ছাড়াও স্পেক্ট্রা সোয়েটার ও স্পেক্ট্রা বায়িং হাউজের পোশাকের নমুনা রাখা ছিল। স্টোর রুমের পাশেই রান্নাঘর। রান্নাঘরে চায়ের পানি গরম করা হয় ইলেকট্রিক কেটলির মাধ্যমে। শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে সেখানে থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ২৮ মার্চ বেলা ১২টা ৫ মিনিটে এই আগুনের সূত্রপাতের সময় স্পেক্ট্রা এস এন টেক্সটাইল অফিসে মাত্র ৩ জন কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। তারা অনেক চেষ্টা করে আগুন নেভাতে পারেননি। এই অগ্নিকাণ্ডের সময় ৮ তলায় কর্মরত এই তিনজন নিরাপদে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্টোর রুমের কেমিক্যালের নমুনা ও তৈরি পোশাকের নমুনায় আগুন ধরে গিয়ে ভয়ংকর আকার ধারণ করে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির কাছে এ রকম তথ্য মিলেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে ১০ ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছে। এই আলামতগুলো গতকাল বনানী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। আলামতগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো— একটি ইলেকট্রিক কেটলি, জিন্স প্যান্টের পোড়া অংশ, বৈদ্যুতিক লাইনের বোর্ডসহ বৈদ্যুতিক তার এবং টিন ও প্লাস্টিকের বোতল। আলামতগুলোর মধ্যে জিন্সের প্যান্টের পোড়া অংশ স্পেক্ট্রা এস এন টেক্সটাইলের তৈরি পোশাকের নমুনা। টিন ও প্লাস্টিকের বোতলে টেক্সটাইলে কাপড় তৈরিতে ব্যবহূত কেমিক্যালের নমুনা ছিল। স্পেক্টা এস এন টেক্সটাইলের মালিক সেলিম উল্লাহ ও তার ছেলে সাকিব এবং নয় তলার মালিক সৈয়দ আমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন।
