দুই সিটি করপোরেশন প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৭, ০২:১৯

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। গতকাল শনিবার পবার নিজস্ব কার্যালয়ে ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন-এর বাজেট ও কার্যক্রম পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক বক্তারা এ কথা বলেন।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ আবদুস সোবহান, মডার্ন কাবের সভাপতি আবুল হাসানাত, পবার সম্পাদক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম তাহিন, ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, পবার সহ-সম্পাদক স্থপতি শাহীন আজিজ, এম এ ওয়াহেদ, নিশাত মাহমুদ, সদস্য প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, সাগিরুজ্জামান শাকীক, বানিপা’র সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

আবু নাসের খান বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র তার সিটি করপোরেশনের বাজেটকে কেন্দ্র করে যে সকল মন্তব্য প্রদান করেন তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায় যে, এই সিটি করপোরেশন এলাকায় যে সকল উন্নয়ন সাধন করেছেন তা আরো অধিকহারে করা সম্ভব যদি তার সিটি করপোরেশনের জন্য বাজেট-এ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়। উপর্যুপরি, বর্তমানে প্রত্যেকটি সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম মেয়র কেন্দ্রিক। শুধুমাত্র একজন মেয়রের পক্ষে সকল প্রকার পরিকল্পনা, কার্যক্রম ও তদারকি করা সম্ভবপর নয়। অতএব, একটি সিটি করপোরেশনের শুধুমাত্র মেয়রের সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে, সমগ্র সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে।

প্রকৌশলী মোঃ আবদুস সোবহান বলেন, সিটি করপোরেশন দুটির নগরবাসীকে যেসব সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেগুলো হচ্ছে রাস্তা, ফুটপাত ও সারফেস ড্রেন মেরামত/উন্নয়ন ও রাস্তার বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; রিকশা/ভ্যানগাড়ি ও ঠেলাগাড়ির লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন; ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন; মশক নিয়ন্ত্রণ; স্বাস্থ্যসম্মত ফুড ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ; সমাজ কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা। বাস্তবে সিটি করপোরেশনের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেবা থেকে নগরবাসী বঞ্চিত।

গোলটেবিল আলোচনায় বেশকিছু সুপারিশ করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ততার পরিবর্তে নাগরিক সেবা প্রদানে পূর্ণ মনোযোগ প্রদান, বিদ্যমান লোকবল, ভৌত অবকাঠামো, সরঞ্জামাদি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পরিপূর্ণভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ, করপোরেশনের পরিকল্পনা বিভাগসহ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, জনগণের অংশগ্রহণ এবং তাদের নিকট জবাবদিহিতা থাকার নিমিত্তে ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ। তাদের উপর অধিক দায়িত্ব এবং তাদের দায়িত্ব পালনের মনিটরিং পদ্ধতি জোরালো ও আয়ের উত্স বৃদ্ধি করা।

ইত্তেফাক/নূহু