ইকবাল খন্দকার
উপস্থাপক :দর্শক, আমি একটি গান পরিবেশন করব। আপনারা কানে তুলা দিয়ে অথবা আঙুল ঢুকিয়ে বসুন। আর আমিও কানে আঙুল দিয়ে নিচ্ছি। এবার তাহলে পরিবেশন করি গানটি—
এসো হে বৈশাখ এসো এসো...
দর্শক, আমার এই অতি সুমধুর গান শোনার পর বৈশাখের বাপেরও ক্ষমতা নেই ঘরে বসে থাকার। তাকে আসতেই হবে। আর বৈশাখের আগমন উপলক্ষেই আমাদের এই বিশেষ আয়োজন। আপনারা যে যেখানে বসে অথবা দাঁড়িয়ে অথবা শুয়ে অথবা আধশোয়া হয়ে আমাদের এই অনুষ্ঠান দেখছেন, সবাইকে এত্তগুলো শুভেচ্ছা। প্রথমেই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি আমাদের অতিথিদের সঙ্গে। আমার ডান পাশে আছেন বসে ঝিমাচ্ছেন প্রথম অতিথি, বাম পাশে বসে ঝিমাচ্ছেন দ্বিতীয় অতিথি। জনাব প্রথম অতিথি, আমি তো বৈশাখ নিয়ে অতিশয় সুমধুর একটা গান শোনালাম। আপনিও কিছু একটা শোনান।
প্রথম অতিথি :আমি একটা কবিতা আবৃত্তি করি। এমন একটা কবিতা, যে কবিতায় বৈশাখের কথা আছে। শুরু করলাম কিন্তু—
আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে।
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পাড়ি।
উপস্থাপক :মারহাবা! মারহাবা! আমরা কী অসাধারণ আবৃত্তি শুনলাম। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও এমন আবৃত্তি হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। এবার তাহলে আপনি কিছু একটা শোনান। অবশ্যই বৈশাখ সংক্রান্ত।
দ্বিতীয় অতিথি :দেখেন, আমার আসলে কিছু শোনানির নাই। তবে উনার কবিতা শোনার পর থেকে আমার মাথার মধ্যে কয়েকটা প্রশ্ন গুঁতা মারতেছে। যদি পারমিশন দেন, তাইলে প্রশ্নগুলা করতে পারি।
উপস্থাপক :নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই।
দ্বিতীয় অতিথি :এই যে উনি বললেন বৈশাখ মাসে নাকি নদীতে হাঁটুজল থাকে। আমার প্রশ্ন হইল, হাঁটুজল যদি থাকে, তাইলে আমার মতো যারা ভদ্রলোক আছে, যারা অলটাইম মোজা পরিধান করে, তাদের মোজা কি ভিজে যায় না? আবার জুতার তলাও তো খুইলা যাইতে পারে। পারে না?
প্রথম অতিথি :গুলিস্তানের চোরাই মার্কেট থেকে জুতা কিনলে তলা তো খুলবই।
দ্বিতীয় অতিথি :অবজেকশন!! কারে আপনে কী বলতেছেন! গুলিস্তানের চোরাই মার্কেট থেকে জুতা কিনছি মানে? আপনে জানেন আমার জুতাগুলা কইত্তে কিনছি? সরাসরি আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত। মাত্র দুই জোড়া জুতা বানায়া কোম্পানিটা বন্ধ হয়ে গেছে। দুই জোড়ার মধ্যে এক জোড়া কিনছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর আরেক জোড়া আমি।
উপস্থাপক :জি, বুঝতে পেরেছি। আপনার আর কোনো প্রশ্ন?
দ্বিতীয় অতিথি :জি, আরেকটা প্রশ্ন আছে। উনি বললেন, ‘পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি।’ আমার প্রশ্ন হইল, এই গরু কি ভদ্র গরু? নাকি ‘গুতাইন্যা’ গরু? মানে গরু কি গুঁতা-টুতা দেয়?
প্রথম অতিথি :জনাব উপস্থাপক, আমার সাথে আপনি এইটা কারে আইনা বসাইছেন? একবার কথা বলে মোজা নিয়া, আবার কথা বলে জুতার তলা নিয়া, এখন কথা বলতেছে গরু নিয়া। অথচ এইটা বাংলা নতুন নববর্ষের অনুষ্ঠান। কোন পরিবেশে কোন কথা বলতে হইব, এই সেন্স যার নাই, আমি তার সাথে বসতে পারি না। আমার একটা ‘ওয়েট’ আছে। আমি থাকব না এইখানে।
উপস্থাপক :প্লিজ, প্লিজ, আপনি শান্ত হোন। অবশ্যই আপনার ওয়েট আছে। আপনি যখন চেয়ারে বসলেন, তখন ‘মড়াত্’ করে একটা আওয়াজ হলো না? তাতেই বুঝে গেছি আপনার প্রচুর ওয়েট।
দ্বিতীয় অতিথি :উপস্থাপক সাহেব, উনারে একটু বইলা দেন, ওয়েট বেশি থাকলে কিন্তু ডায়াবেটিস হইতে পারে। আমার তো মনে হয় উনার অলরেডি ডায়াবেটিস হইয়া গেছে। আর এখন উনি দাঁড়াইছে টয়লেটে যাওয়ার লাইগা।
প্রথম অতিথি :এই, এই... একদম বেত্তমিজি করবেন না। তাইলে কিন্তু খবর কইরা ছাড়মু। আপনি জানেন আমার কত ক্ষমতা?
দ্বিতীয় অতিথি :আরে রাখেন আপনের ক্ষমতা! আমার ক্ষমতা সম্পর্কে আপনের কোনো ধারণাই নাই। আরে আমার সাথে যে এই অনুষ্ঠানে বসতে পারছেন, এইটা তো আপনের চৌদ্দগুষ্টির সৌভাগ্য।
প্রথম অতিথি :খামোশ!! গোষ্ঠী তুইলা কথা বলবেন না। তাইলে কিন্তু ঘুষি মাইরা নাকের বাঁশি ভাইঙ্গা ফালামু।
উপস্থাপক :‘নাকের বাঁশি ভেঙে আর কাজ নাই, সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি...’ দর্শক, পরিস্থিতি অত্যন্ত গরম। আমি এক কাজ করি, দুইজনের মাথায়ই একটু বরফ দিয়ে নিয়ে আসি। আর বেলের শরবত খাইয়ে নিয়ে আসি। আপনারা ততক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকতেও পারেন, নাও থাকতে পারেন। আপনাদের ইচ্ছা। আমরা কোনো বেটাকে সাধি না, সাধব না।
