আক্কেলপুরে বাড়ছে নদীর পানি, ডুবছে লোকালয়

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১২:১৩
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মাঠের ফসল ডুবে গেছে। পৌর শহরে প্রধান হাট কলেজ বাজারে হাটু পানি জমে গেছে। তুলসীগঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে পৌরসদরসহ উপজেলার বেশ কয়েক জায়গার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে ৩০০ হেক্টর আমন ধানের ফসল ও ৫০ হেক্টর বিভিন্ন শাক-সবজির আবাদী ফসলের জমি পানিতে ডুবে গেছে। নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। 
 
সরোজমিনে দেখা গেছে, গত কায়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পৌরসভার প্রধান হাট, কলেজ বাজার এখন হাটু পানির নিচে। শহরের প্রধান দুটি সড়কে পানি উঠে মানুষের চলাচলে দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে। পৌর সদরের বিহারপুর গ্রামের মাঠ, হাস্তাবশন্তপুর মাঠসহ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের হরিসাড়া, দিয়ল, লোচন পাড়া, দুলালী, রত্নাহারসহ সোনামুখী ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামের মাঠ থেকে তিলকপুর পর্যন্ত ফসলী আবাদ পানিতে ডুবে গেছে। অপরদিকে রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী গ্রামের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্রী খাল দিয়ে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি ঢুকে হালিরমোড় এলাকার মাঠের সমস্ত আমন ফসল ডুবে গেছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পানি এখন বিপরীত দিকে ফুঁসে উঠছে। রায়কালী ইউনিয়নের চিয়ারীগ্রামের মাঠ, মোহনপুর গ্রামের মাঠসহ আশেপশের সবকটি মাঠের আমন ধানের ফসল এখন পানির নিচে। IMG0
 
রুকিন্দীপুর ইউপির সদস্য ফরিদ হোসেন বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের বেশ কিছু মাঠের ফসল নদীর পানিতে ডুবে গেছে। ভালকী, পুড়ার বিল, রোয়ারের দক্ষিণ মাঠের আমন ধানের আবাদসহ সকল ফসলী জমি পানিতে ডুবে গেছে। এখন গ্রামের মধ্যে পানি ঢুকছে। যদি আওয়ালগারী গ্রামের শ্রীখালে একটা স্লুইস গেট থাকতো তাহলে আমাদের মাঠে নদীর পানি ঢুকত না। ফসলও নষ্ট হতো না। বিহারপুর গ্রামের জাকীর হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার মন্ডপতলার মাঠ পানিতে ডুবে গেছে। এখন সময় যত যাচ্ছে মাঠের পানি ততই বাড়ছে এভাবে পানি বাড়লে গ্রামের মধ্যে পানি এসে যাবে।’
 
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম রাশেদুল আলম সবুজ বলেন, ‘টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে উপজেলার বেশ কিছু ফসলী মাঠ ডুবে গেছে এর মধ্যে চকবিজলী, রামশালা, মাতাপুর ও রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের হালির মোড়, আওয়ালগাড়ী গ্রামের বেশ কিছু মাঠ তুলসীগঙ্গা নদীর পানিতে ডুবে গেছে।IMG1
 
আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর বলেন, ‘নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরসদরের সিদ্ধির মোড় স্মশান ঘাট এলাকা ও দেব পাড়া এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঝুকিপূর্ণ স্থানে বালুর বস্তা দিয়ে পানি আটকানো রয়েছে। তবে যে ভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে ততে বাঁধ ভেঙে শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই