গোয়ালন্দে পদ্মার পানি আবারো বিপৎসীমা অতিক্রম

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১৭:২৬
 
পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে আবারো বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ১৬ হাজার পরিবার।
 
এতে করে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বন্যা দুর্গত দেবগ্রাম, দৌলতদিয়া, উজানচর ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে তীরবর্তী দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে নদী ভাঙন। অসহায় হয়ে পড়েছে পানিবন্দী হাজার হাজার মানুষ। এ সব এলাকার মানুষ পানির ভয়াবহতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নসহ ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দী রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৭৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।মঙ্গলবার এ পয়েন্টে পানির স্তর ছিলো ৯.৪১ সে. মি.। এমনটাই জানিয়েছেন রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরদার।
 
সরজমিন পরিদর্শন কালে দেখা গেছে, গোয়ালন্দ-উড়াকান্দা সড়কের পার্শ্ববর্তী দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পানিবন্দী রয়েছে। ক্লাস রুমে পানি উঠে গেছে। শিক্ষার্থীরা প্রায় গলাপানির মধ্যে দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে কচি-কাচা শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। নৌকা বা কলা গাছের তৈরি ভেলা চলে অনেকেই যাতায়াত করছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুয়ারা কাদরী বলেন, বিদ্যালয়টিতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। পরীক্ষা চলছে, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কোন প্রকার নির্দেশ বা আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত কাযক্রম চলবে।
 
গোয়ালন্দ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আ. মালেক জানান, উপজেলার তেনা-পচা, চাঁদখানপাড়া, বেতকা, চরবেতকা, বেথুরি, মজলিসপুর জয়নালমৃধা, দক্ষিণ ধোপাগাতি, সামেজুদ্দিন বেপারী পাড়া, দেবগ্রাম, কুশাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রাঙ্গণ সহ ক্লাসরুমে পানি উঠে গেছে। সাময়িক ভাবে স্কুলগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
 
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাসান হাবিব জানান, গোয়ালন্দ উপজেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার পরিবার পানি বন্দীহয়ে পড়েছে। এদের সাহায্যের জন্য ১০ লাখ টাকা, ১৭০ মেট্রিক টন চাউল, শুকনা খাবার সহ অন্যান্য চাহিদা উল্লেখ করে গত সোমবার সংম্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র দেয়া হয়েছে। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে আমার কাছে তালিকা পৌঁছানো মাত্র ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ প্রদানের ব্যবস্থা করবো।
 
ইত্তেফাক/জামান