গণপরিবহনে লোকাল ও সিটিং সার্ভিসের সুপারিশ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৭, ০১:১২

রাজধানীতে গণপরিবহনে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক কোম্পানিকে সিটিং ও লোকাল দুই সার্ভিসেই বাস চালাতে হবে। সিটিং সার্ভিসে চলতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে ফলে সিটিং সার্ভিস বহাল রাখা প্রয়োজন। তবে সিটিং সার্ভিসের রঙ থাকবে আলাদা এবং থাকতে হবে কম স্টপেজ। রাজধানীতে যাত্রীসেবা নিশ্চিতে বিআরটিএ’র গঠিত কমিটি গত ১ আগস্ট এ সুপারিশমালা ঠিক করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপারিশ কমিটির আহবায়ক বিআরটিএর পরিচালক ( রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব ই রব্বানী। তবে তিনি বলেছেন, ঈদুল আজহার পর  বিআরটিএর চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আরো একটি বৈঠক হবে। সেখানেই সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে। উল্লেখ্য, রাজধানীতে বর্তমানে গণপরিবহনের ( বাস ও মিনিবাস) সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। আর এসব গণপরিবহন চলাচল করে ১৪৭টি কোম্পানির নামে।

সিটিং সার্ভিসের ব্যাপারে কমিটি পাঁচটি সুপারিশ করেছে। এরমধ্যে রয়েছে এক. দীর্ঘদিন যাবত্ সিটিং সার্ভিসের মাধ্যমে যাত্রীগণ চলাচলে অভ্যস্থ হয়েছেন। অপরদিকে পরিবহন মালিকরাও সিটিং সার্ভিস পরিচালনায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। ফলে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে নিয়মনীতির আলোকে সিটিং সার্ভিস ব্যবস্থা বহাল রাখা উচিত। দুই. একটি কোম্পানি/ অপারেটরের সবগুলো বাস সিটিং সার্ভিস হিসেবে না চালিয়ে কিছু সংখ্যক গাড়ি সিটিং এবং অবশিষ্ট গাড়ি নন সিটিং হিসেবে পরিচালনা করা। প্রতিটি কোম্পানির কতগুলো গাড়ি সিটিং,কতগুলো নন সিটিং হিসেবে চলাচল করবে তা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা । তিন. সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলাচলকৃত গাড়ির রঙ আলাদা থাকতে হবে। চার. সিটিং সার্ভিসের জন্য পৃথক ভাড়া হতে হবে, যা  হবে সরকার নির্ধারিত। সম্পূর্ণ রুট কয়েকটি  ধাপে হবে। এছাড়া ভাড়া নির্ধারণ করা যেতে পারে ধাপ  ভিত্তিক। পাঁচ. সিটিং সার্ভিসের জন্য সীমিত সংখ্যক স্টপেজ থাকতে হবে।

এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাসগুপ্ত বলেন, সুপারিশ পেশ করা হলেও এ ব্যাপারে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক হবে। বৈঠকের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, ঈদুল আজহার পরে এ বৈঠক হবে। ওই বৈঠকেই সুপারিশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই রাজধানীতে গণপরিবহনে সুষ্ঠু যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পাঁচ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ  বলেন, কমিটি প্রাথমিক সুপারিশ পেশ করেছে শুনেছি। তবে বিআরটিএ থেকে চূড়ান্ত হয়ে আসার পর যোগাযোগ মন্ত্রণালয় যাচাই বাছাই করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য  নির্দেশনা প্রদান করবে।

পেছনের কথাঃ চলতি বছরের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বৈঠক শেষে রাজধানীতে  গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে  সিটিং সার্ভিস, গেইট লক বা  বিরতিহীন স্পেশাল সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এটি কার্যকরের পর ১৫ এপ্রিল থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধে বিআরটিএ এবং মালিক সমিতির যৌথ অভিযানের কারণে রাজধানীতে বাস ও মিনিবাস উধাও হয়ে যায়। তবে এ সিদ্ধান্তে যাত্রীসেবা না বেড়ে, উল্টো সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার করে। এ অবস্থায় তিন দিনের মাথায় সিটিং সার্ভিস বন্ধের ঘোষণা ১৫ দিন স্থগিত করে বিআরটিএ। পরবর্তীতে গত ৩ মে আবার সিটিং সার্ভিস চলাচলের জন্য তিন মাস সময় বাড়ানো হয়। পাশাপাশি  সিটিং বন্ধ করা বা চালু রাখার সিন্ধান্ত নিতে ৮ সদস্য বিশিষ্ট সুপারিশ কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

কমিটি সূত্র জানায়,আট সদস্য বিশিষ্ট কমিটি প্রথম বৈঠক করে গত ১৪ এপ্রিল। প্রথম বৈঠকে গণপরিবহনে সুষ্ঠু যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত ৩১ মে পর্যন্ত ওয়েবসাইটে ২০৫ জন মতামত জানায়। কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক হয় গত ১৯ জুন। ওই বৈঠকে ওয়েব সাইটে প্রাপ্ত মতামত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সর্বশেষ গত ১ আগস্ট তৃতীয় বৈঠকে কমিটি সিটিং সার্ভিসের ব্যাপারে ৫ দফা সুপারিশ তৈরি করে। এছাড়া কমিটি রাজধানীতে গণপরিবহনের বিষয়ে ২৬টি সুপারিশ পেশ করেছে।

ইত্তেফাক/নূহু