আধুনিক জীবনে যান্ত্রিক মানুষ হারিয়ে ফেলে প্রাণশক্তি। কি করে নতুন ও তারুণ্যের উদ্দীপনা তাদের এই বন্দিত্ব থেকে মুক্তি এনে দেয়, তারই ব্যঙ্গাত্বক প্রকাশ ‘তাসের দেশ’। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস বিপা যৌথভাবে মঞ্চস্থ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৃত্যনাট্য ‘তাসের দেশ’।
শিল্পকলা একাডেমি ও বিপার এই যৌথ প্রযোজনায় অংশগ্রহণ করার জন্য নিউইয়র্ক থেকে এসেছে ২০ সদস্যের একটি দল। তাদের সঙ্গে আরো যোগ দিয়েছেন শিল্পকলার ৮ জন নৃত্যশিল্পী এবং কিছু শিশু নৃত্যশিল্পী। এই নৃত্যনাট্যের মূল পরিকল্পনা, নৃত্য পরিচালনা ও পোশাক পরিকল্পনা করেছেন এ্যানি ফেরদৌস।
তিনি জানান, ঢাকার মঞ্চে ‘তাসের দেশ’-এর উপস্থাপনা বিপার অন্যান্য পরিবেশনা থেকে একটু আলাদা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা একদল কিশোর-কিশোরী এই নৃত্যনাট্য তাসের দেশে অভিনয় করছে।
এ্যানি জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই রচনাকে বাংলাদেশি নতুন প্রজন্ম ও আমেরিকান মূল ধারায় বোধগম্য করার উদ্দেশ্যে এই নৃত্যনাট্যের সংলাপ ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। এটি প্রবাসে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। এতে চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে মুখোশ। এই মুখোশ তৈরি করেছেন আমেরিকান শিল্পী জিল রাইনিয়ার। নৃত্যনাট্যের সংগীত পরিচালনা করেছেন পরিচালক নাদিম আহমেদ। শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে বিপার ‘তাসের দেশ’ হল দ্বিতীয় আয়োজন। প্রথম আয়োজন ছিল ২০১৫ সালে ‘নৈবেদ্য’।
‘প্রতিরোধে প্রস্তুত ক্যামেরা’ শ্লোগানকে ধারণ করে শুরু হলো দু’দিনব্যাপী ’জহির রায়হান চলচ্চিত্র উত্সব’। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সংগ্রামী কর্মী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জহির রায়হানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এ উত্সবের আয়োজন করেছে।
গতকাল সকালে শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে উদীচী, ঢাকা মহানগর সংসদ আয়োজিত এ উত্সবের উদ্বোধন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ড. সফিউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে জহির রায়হানের পুত্র অনল রায়হান ও উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন উদীচী, ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শীশ।
উদ্বোধনী পর্বে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের নানা পর্যায় ও ভবিষ্যত্ এবং জহির রায়হানের জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে জহির রায়হান নির্মিত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের গান ‘দাও দাও দুনিয়ার যতো গরীবকে আজ জাগিয়ে দাও...’ এবং ভূপেন হাজারিকার ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি ছুটে ছুটে আয়...’ গান দু’টি পরিবেশন করেন উদীচী’র শিল্পীরা। এর আগে ‘রাজা যায় রাজা আসে, রাণীরাও আসে যায়...’ গানটির সাথে পরিবেশিত হয় দলীয় নৃত্য।
উত্সবের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া, উত্সবস্থলের বাইরে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তার উদ্দেশে উদীচী’র উদ্যোগে বুথ খোলা হয়। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। শুরুতেই প্রদর্শিত হয় একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের উপর জহির রায়হান নির্মিত চলচ্চিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’। এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র ও চারুকলা বিভাগ প্রযোজিত এবং প্রদীপ ঘোষ রচিত ও নির্দেশিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ভাষানপানি’ প্রদর্শিত হয়। তারপর ধারাবাহিকভাবে একে একে দেখানো শুরু হয় তৌকির আহমেদ নির্মিত ‘অজ্ঞাতনামা’, কামার আহমেদ সাইমন নির্মিত ‘একটি সুতার জবানবন্দি’ এবং তানভীর মোকাম্মেল নির্মিত ‘জীবনঢুলী’।
আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে উত্সবের দ্বিতীয় ও শেষ দিনের অনুষ্ঠানমালা। কাল দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রদর্শিত হবে প্রজন্ম টকিজের সালেহ সোবহান অনীম নির্মিত ‘পুনরাবৃত্তি’; সাঈদ আহমেদ সাকী নির্মিত ‘উপসংহার’ এবং জাহিদুর রহিম অঞ্জন নির্মিত ‘মেঘমল্লার’। সকল চলচ্চিত্র প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে দুই শিল্পীর যৌথ প্রদর্শনী
শিল্পী সৈয়দ ফিদা হোসেন ও সুলতান ইশতিয়াকের চিত্রকর্ম নিয়ে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো লা গ্যালারির ‘অবসেশন’ শিরোনামের এক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে। গতকাল শুক্রবার দুই শিল্পীর আঁকা ২৩টি চিত্রকর্ম নিয়ে সাজানো এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চারুকলার অধ্যাপক জামাল আহমেদ। অতিথি ছিলেন এ্যাডওয়ার্ড এম. কেনেডি সেন্টারের পরিচালক এম কে আরিফ।
প্রদর্শনীটি চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি খোলা থাকবে। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
‘সম্প্রীতির শিল্পযাত্রা’ : জাতীয় শোক দিবস পালনের অংশ হিসেবে সম্প্রীতি নাট্যোত্সব পর্ষদ ও শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় শুক্রবার শুরু হয়েছে ‘ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়া সম্প্রীতির শিল্পযাত্রা’। সম্প্রীতির শিল্পযাত্রার উদ্বোধন করেন নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান। অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী জানান, জাতির জনকের চেতনা ও প্রেরণায় নতুন শক্তি ও সাহসের শপথ নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধে সকলকে সচেতন করা ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানে এ সম্প্রীতির শিল্পযাত্রা।
শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের জাগরণী কোরিওগ্রাফী পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এ শিল্পযাত্রা শুরু হয়। নাট্যজন কামাল বায়েজীদের নেতৃত্বে সারা দেশের শতাধিক সংস্কৃতিকর্মী এ শিল্পযাত্রায় অংশ নিচ্ছে। পথ বিরতিতে মাওয়া ফেরিঘাটে, কাওরাকান্দি ফেরিঘাটে, গোপালগঞ্জ শহর এবং জাতির জনকের সমাধিস্থলে পরিবেশিত হবে জাগরণী কোরিওগ্রাফি পরিবেশনা।
