‘গায়ের সোগ টিউবল ডুবি গ্যাচে, তাই বানের পানি খাবার নাগচি’

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৭, ১৭:২৫

ঘরের মেঝেতে হাঁটুপানি। চৌকি ডুবু ডুবু, তবে বিছানাটা ভিজেনি। বাইরেও একই অবস্থা। নৌকা, কলারভেলা ছাড়া দাঁড়ানোর মতো শুকনা জায়গা নেই। 

 

তাই নৌকায় রান্না, ঘুমানো, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব কাজই চলছে। ভেড়া-ছাগল রাখা হয়েছে চৌকিতে। মুরগি ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরের চালে। এমন চিত্র উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের। 

 

শনিবার সকালে বন্যাকবলিত গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়ন সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রতনপুর গ্রামের দিনমজুর ফকির চাঁনের পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে সাত সদস্যের সংসার। বন্যার আগে তিনি দিনমজুরের কাজে ঢাকায় গেছেন। স্ত্রী আনজু আরা বেগম (৪০) শিশু সন্তানকে নিয়ে নৌকায় বসে আছেন। তিনি স্থানীয় ভাষায় বলেন, ‘বাড়িত ছোলের (ছেলে) বাপ নাই। ছোলগুলোক নিয়্যা বিপোদোত পড়চি। কোনঠেনে (কোথাও) শুকনা জাগা নাই বাহে। আর বাড়ির জিনিসপাতি থুয়্যাই (রেখে)  কোনটে যামো। ৪ দিন থাকি নায়ের (নৌকা) মদ্দে থাকপ্যার নাগচি।’ 

 

একই গ্রামের কৃষক আমির আলী (৫৫) বলেন, ‘আইতোত (রাতে) নায়ের (নৌকা) মদ্দে নিন (ঘুম) পারব্যার চাই। কিনতো সাপ, পোকা মাকরের ভয়ে নিন ধরে না।’

 
ওই গ্রামের আছিরন নেছা (৪২) বলেন, ‘গায়ের সোগ (সব) টিউবল ডুবি গ্যাচে। তাই খাবর পানিটার কষ্ট সোগ চ্যায়া বেশি। তাই হামরা বানের পানিই খাবার নাগচি।’  এ রকম ঝুঁকির মধ্যে বানভাসিরা দিনের পর দিন পার করছে। 
 
এ বিষয়ে উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহাতাব উদ্দিন সরকার জানান, বন্যা কবলিত ওইসব গ্রামে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। তবে শুকনা খাবারের চাহিদা আছে। পানিবন্দিদের উদ্ধার করা হচ্ছে।
 
প্রসঙ্গত, গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়ার পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তামুখ ঘাটে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি শহর পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি