ঘরের মেঝেতে হাঁটুপানি। চৌকি ডুবু ডুবু, তবে বিছানাটা ভিজেনি। বাইরেও একই অবস্থা। নৌকা, কলারভেলা ছাড়া দাঁড়ানোর মতো শুকনা জায়গা নেই।
তাই নৌকায় রান্না, ঘুমানো, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব কাজই চলছে। ভেড়া-ছাগল রাখা হয়েছে চৌকিতে। মুরগি ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরের চালে। এমন চিত্র উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের।
শনিবার সকালে বন্যাকবলিত গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়ন সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রতনপুর গ্রামের দিনমজুর ফকির চাঁনের পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে সাত সদস্যের সংসার। বন্যার আগে তিনি দিনমজুরের কাজে ঢাকায় গেছেন। স্ত্রী আনজু আরা বেগম (৪০) শিশু সন্তানকে নিয়ে নৌকায় বসে আছেন। তিনি স্থানীয় ভাষায় বলেন, ‘বাড়িত ছোলের (ছেলে) বাপ নাই। ছোলগুলোক নিয়্যা বিপোদোত পড়চি। কোনঠেনে (কোথাও) শুকনা জাগা নাই বাহে। আর বাড়ির জিনিসপাতি থুয়্যাই (রেখে) কোনটে যামো। ৪ দিন থাকি নায়ের (নৌকা) মদ্দে থাকপ্যার নাগচি।’
একই গ্রামের কৃষক আমির আলী (৫৫) বলেন, ‘আইতোত (রাতে) নায়ের (নৌকা) মদ্দে নিন (ঘুম) পারব্যার চাই। কিনতো সাপ, পোকা মাকরের ভয়ে নিন ধরে না।’
