দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা এই তিন অববাহিকার মধ্যে গঙ্গায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও ব্রহ্মপুত্রের উজানের ভারতীয় অংশে এবং মেঘনা অববাহিকার ভারতীয় ও বাংলাদেশ অংশে পানি হ্রাস অব্যাহত আছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে নদীগুলোর পানি কমছে। ফলে সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। এছাড়া বৃষ্টি না হলে ঢাকায় বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
এদিকে গতকাল আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল সাংবাদিকদের জানান, এখন পর্যন্ত বন্যায় ৯৮ জন মারা গেছেন। ২৭টি জেলার ১৩ লক্ষ ২২ হাজার ১৮১ পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ৫ লক্ষ ৩২ হাজার। আর ৯৮১ আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লক্ষ ৯৭ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে। দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ ও শরিয়তপুরে নিম্নাঞ্চলের কিছু জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং কিছু জায়গায় অবনতিশীল থাকবে যা পরবর্তিতে স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে মধ্যাঞ্চলে ঢাকার চারপাশের ৫টি নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ৩ সে.মি. থেকে ১২০ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর ২৮ পয়েন্টে পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৫১ পয়েন্টে পানি কমেছে এবং ৩৬টিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভারতীয় অংশে আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় গড়ে ১৬ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেতে পারে। বাংলাদেশ অংশের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানি হ্রাস অব্যাহত থাকবে। এছাড়া গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকলেও বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমে এসে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। মেঘনা অববাহিকার নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি না হলে সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে। এই মুহূর্তে ঢাকাতে বন্যা হওয়ার কোনো আশঙ্কা করছি না বলেও তিনি জানান।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) এখন বাংলাদেশের ওপর দুর্বল। তাই আগামী কয়েক দিন দেশের কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা নেই।
