পাওনার দাবিতে বিজিএমইএতে শ্রমিকদের অবস্থান

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৭, ২০:৪৮
টঙ্গীর মিল গেট এলাকার সাস ফ্যাশনওয়্যার নামে একটি কারখানার দুই শতাধিক শ্রমিক বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে রাজধানীর কাওরান বাজারের বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে। 
 
বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ওই ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন তারা। রবিবার বেলা ১১টার দিকে তারা ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। সন্ধ্যা সাতটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা ভবনের নিচেই অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) ও বিজিএমইএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের যোগাযোগ চলছে। 
 
শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত ঈদের পর জুলাইয়ের ৩১ তারিখে বিনা নোটিশে  কারখানা বন্ধ করে দেন মালিকপক্ষ। এর পর শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন ও সার্ভিস নেবিফিটের অন্যান্য পাওনা অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে চার দফা তারা বিজিএমইএ ভবনে এসেছেন। বেতন ও সার্ভিস বেনিফিটের অর্থ ২০ আগস্ট পরিশোধে মালিক, শ্রমিক, সরকার ও বিজিএমইএর কর্মকর্তাদের লিখিত অঙ্গীকারও ছিল। কিন্তু দিনভর অপেক্ষা করলেও শ্রমিকরা বেতনের অর্থ পাননি। 
 
টঙ্গীর মিল গেট এলাকা থেকে বিজিএমইএ ভবনের সামনে হেঁটে এসেছেন কারখানাটির শ্রমিক শিরিন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, টাকা নাই তাই হেঁটে এসেছি। চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। তার মত টাকার অভাবে হেঁটে এসেছেন বলে জানালেন শ্রমিক মিনু, আমেনাসহ আরো কয়েকজন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ বছর বয়সের আমেনা কারখানাটিতে ঝাড়ুদারের কাজ করতেন। তিনি বলেন, বেতনের টাকা না পাওয়ায় বাড়িভাড়ার টাকা দিতে পারছি না। সংসারে রোজগারের আর কেউ নেই। এখন টাকা না পেলে কী করব? বাড়িওয়ালা বলেছে, ঘরে তালা দেবে। এ নিয়ে চারদিন বিজিএমইএতে এসেছি। 
 
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কারখানাটিতে সাড়ে চারশ’ শ্রমিক কাজ করতেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. কাশেম ইত্তেফাককে বলেন, পাওনার বিষয়টি সমাধান না হলে কারখানায় অবস্থান করবে শ্রমিকরা। তারপরও আমরা ডিআইএফইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। দেখা যাক কী হয়।  
 
এদিকে পাওনার দাবিতে রবিবার রাজধানীর শান্তিনগরের প্যারাডাইজ হাই-ডিজাইন নামে একটি গার্মেন্টস কারখানার কিছু শ্রমিকও বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। দিনভর আলোচনা শেষে মালিকপক্ষ কারখানাটি চালাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের পাওনা অর্থ ঈদের আগেই পরিশোধের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি