উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে রবিবার সকালে আত্রাই নদীর অববাহিকায় গিয়ে দেখা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পানিতে মরা গরু, কুকুর ভেসে আসছে। আত্রাই নদী আর বিলশা-বিলহরিবাড়ি বিল সংলগ্ন বিলহরিবাড়ি, মধ্যপাড়া, সাবগাড়ি, বিলহরিবাড়ি কারিগর পাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাড়ি-ঘর ছেড়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু এলাকায়। অনেকে আসবাবপত্র, গবাদিপশু নিরাপদ স্থলে নিতে না পেরে কোনোমতে পানির মধ্যেই বসবাস করছেন অনেকেই। এই এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এখন ডিঙ্গি নৌকা ও কলাগাছের ভেলা।
এদিকে আত্রাই নদীর দুই ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ঘরবাড়িগুলো কোনমতে জেগে রয়েছে। জেগে থাকা ঘর-বাড়িতেও পানি ছুঁই ছুঁই অবস্থা। আত্রাই নদীর প্রবল ঢেউয়ের পানি প্রায়ই আছড়ে পড়ছে সেসব ঘরে। নদীর তীরে বসবাসরত সাবগাড়ি ও বিলহরিবাড়ি এলাকার কয়েক হাজার মানুষ চরম ঝুঁকির নিয়ে বসবাস করছেন সেখানে। আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি আগের তুলনায় কমলেও বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আত্রাই নদীর শাখা হরদোমা নালার পানি বিপৎসীমার ৪.৪৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাবনা প্রধান কার্যালয়ের গেজ পাঠক (গেজ রিডার) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, গুরুদাসপুর পৌর সদর ও চাঁচকৈড় হাটের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নন্দকুঁজা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে গুরুদাসপুর শহরসহ পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে প্রায়ই বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। বিলহরিবাড়ি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
