বৈশাখী উত্সবকে ঘিরে কেনাকাটায় ধুম

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২২

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পুরোদমে জমে উঠেছে কেনাকাটা। রাজধানী জুড়েই বৈশাখী আমেজ। শপিংমল ও বুটিক হাউজগুলো সেজেছে রঙে। গতকাল কয়েকটি শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, পহেলা বৈশাখকে উদযাপন করতেই নগরবাসী নেমেছে রকমারি পোশাক আর গহনা কিনতে। কেনাকাটার শীর্ষে রয়েছে—শাড়ি, পাঞ্জাবি, তাগা, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া। আগে কেবল সাদা আর লাল রঙের প্রাধান্য থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে চলছে সবগুলো উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার। এ বছর সাদার সঙ্গে হলুদ, লাল, নীল, কমলা, আকাশি, বাসন্তি, বাদামিসহ ধূসর রংগুলোও প্রাধান্য পেয়েছে। তবে শাড়ি এখনো লাল সাদাই বেশি চলছে বলে জানান বিক্রেতারা।

দেশীয় বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ এ বছর পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ডিজিটাল প্রিন্ট ও স্ক্রিন প্রিন্টের কাপড়ে তৈরি করেছে পোশাক। হাতপাখা, ঢোল, পুতুল, চুড়ি কিংবা হাতি-ঘোড়ার ছবি সম্বলিত পোশাকের প্রাধান্যই বেশি। আর পোশাকেও এসেছে নানা ডিজাইন। পোশাক ও শাড়িতে দেখা যাচ্ছে প্রাচীন স্থাপনার নকশা, দেশীয় আল্পনার ছাপ, বাটিকের কাপড়ের শাড়ি-পোশাকের পাশাপাশি ওড়না, ব্লাউজ, পালাজ্জো, কোর্তা। পাওয়া যাচ্ছে গামছার কাপড়ের শাড়ি, জামা ও কোর্তা। এবার পোশাকে কোটির ব্যবহার দেখা যাচ্ছে বেশি। শাড়ির আঁচলে ফুটে উঠেছে মাটির পাত্র বা সরার নকশা। আছে সাপ-লুডুর নকশা, সন্দেশের ছাঁচের নকশার মোটিফ। কবিতার পঙতি কিংবা যুগল পোশাকও চলছে ভালোই। নকশি কাঁথার ফোড়ের ব্যবহার তো বরাবরের মতো আছেই।

বৈশাখের বেচাকেনা সম্পর্কে কথা হয় বিক্রেতা আফসান আরিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, বৈশাখে প্রতিবছরের মতো এবারও বেচাকেনা অনেক ভালো।

ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে কথা হয় ক্রেতা বিপাশা নওরোজের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানকার বিক্রেতারা সবাই দেশের বাইরে থেকে শাড়ি এনেছেন। তবে কিছু দেশীয় ব্লক ও বাটিকের পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম কিছুটা বেশি। তরুণীরা শাড়ির জন্যে লাল, সাদা, কমলা ও টিয়া রংকে পছন্দ করলেও সালোয়ার কামিজের জন্য অন্য সবগুলো রং প্রাধান্য পাচ্ছে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে মাটির ও কাঠের গহনা বিক্রি হচ্ছে বেশি। তবে কাচের চুড়ির ব্যবহার ব্যাপক। বৈশাখী উত্সবে ছেলেদের পছন্দ পাঞ্জাবি।