ডা. সঞ্চিতা বর্মন
শরীরে যখন অতিরিক্ত পরিমাণে স্নেহ বা চর্বি জাতীয় পদার্থ জমা হয়, শরীরের এই বিশেষ অবস্থাকে স্থূলতা বা ওবেসিটি বলা হয়। বর্তমানে স্থূলতার সমস্যা সকল ধরনের বয়সের নারী পুরুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। স্থূলতায় স্বাস্থ্যের ওপর নানান ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যেমন- হূদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্বাসকষ্ট, ওস্টিওআর্থ্রাইটিস, কয়েক ধরনের ক্যান্সার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি। অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, মানসিক অসুস্থতা, বংশগতভাবে জিনগত বৈশিষ্ট্য থেকে প্রাপ্ত গুণাবলী, হরমোনগত সমস্যা মূলত স্থূলতা বা মোটা হওয়ার জন্য দায়ী।
পূর্বের চেয়ে বর্তমানে স্থূলতার হার প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই হার অব্যাহত রয়েছে। তাই স্থূলতার এই হার কমাতে স্থূলতা প্রতিরোধ করতে হবে। সচেতন থাকতে হবে সব বয়সের সকল নারী পুরুষদের।
ছোট থেকে শিশুদের খেলাধুলা ও শরীর চর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে। বড়দের নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। অতিরিক্ত চর্বি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে পর্যাপ্ত পরিমাণে তাজা ফল ও শাক-সবজি বেশি করে প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত নয়, প্রতিবেলা পরিমাণমত খেতে হবে। কোমল পানীয়র পরিবর্তে বেশি করে পানি, তাজা ফলের শরবত বা ডাবের পানি খাওয়া যেতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে।
লেখক: ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ
