সিলেটের বহুতল ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৭

নগরীতে হাইড্রেন্ট সিস্টেম চালুর সুপারিশ

হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস

সিলেট নগরীতে দিনে দিনে বাড়ছে বসতি। বাড়ছে হোটেল, ক্লিনিক, আবাসিক ও বহুজাতিক বাণিজ্যিক বহুতল ভবন। ফলে নগরীতে আগুনের ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু এসব ভবনের বেশিরভাগের নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। অনেকেই  বিল্ডিং কোড বা ফায়ার সার্ভিসের আইন না মেনে ইমরাত নির্মাণ করেছেন। তাই অধিকাংশ ভবনে ফায়ার এক্সিট নেই। নেই দক্ষ জনবল। এমনকি নগরীর অনেক বাসাবাড়ি ও ভবনে ব্যবহূত বৈদ্যুতিক তার ও যন্ত্রপাতি মেয়াদোত্তীর্ণ। যা থেকে অহরহ বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। গত শুক্রবার রাতে উপশহরের সামাদ ম্যানশনের পার্শ্ববর্তী হাসেম এন্টারপ্রাইজের একটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পণ্যের (ভাঙ্গাড়ি) দোকানে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে উপশহরবাসী বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।

এমনিতেই সিলেট তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ এলাকা। নগরীসহ আশপাশ এলাকার মাটির নিচে রয়েছে প্রচুর তেল-গ্যাসক্ষেত্র। বিমান বন্দর সড়কে লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকায় রয়েছে একটি বড় তেলক্ষেত্র। শহরের অদূরেই হরিপুর গ্যাসকূপ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেট নগরীতে আগুনের ঝুঁকি এড়িয়ে যাবার মতো নয়। অথচ অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে সিলেট নগরীর অন্তত ৯৫ ভাগ ভবনে আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি নেই। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, নগরীর কোনো কোনো সরকারি অফিসে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। এমনকি তালতলাস্থ ফায়ার স্টেশন অফিস ভবনটিও জরাজীর্ণ।

ফায়ার ব্রিগেডের কর্মকর্তারা জানান, প্রথম শ্রেণির সিলেট ফায়ার স্টেশনে মাত্র ৩৫ জন কর্মী আছেন। এর মধ্যে ২২ জন ফায়ারম্যান। ১৪টি গাড়ির মধ্যে ৬টি পানি ছিটানোর কাজে ব্যবহূত হয়। বাকিগুলো উদ্ধারকারী গাড়ি। এ অবস্থায় সিলেটের কোথাও যে কোনো বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। তাছাড়া অনেক স্থানেই রাস্তা সরু, জলাধারের অভাব। একসময় সিলেটকে পুকুরের শহর বলা হলেও এখন পার্শ্ববর্তী সুরমা নদীই ভরসা। তাও শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে থাকে। অবস্থা বিবেচনায় সিলেট নগরীতে এখন ‘হাইড্রেন্ট সিস্টেম’ চালু করা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থায় নদীর সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বড় বড় পানির পাইপের সংযোগ থাকবে ও মটর চালু থাকবে। যা থেকে সহজে নগরীর যে কোনো প্রান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করা যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সিলেট ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সিলেটে ২৪তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া আছে। কর্মকর্তারা জানান, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য লে-আউট প্ল্যান দমকল বাহিনীর নিকট জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ম কেউই মানছেন না। নগরীর কোনো কোনো স্থানের বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনির্বাপকের জন্য যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা নামমাত্র। এমনকি এ ব্যবস্থার ব্যবহারও জানেন না নিরাপত্তা কর্মীরা।

এদিকে ‘বহুতল ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখার জন্য মালিকদের সচেতন করা প্রয়োজন’ বলে মন্তব্য করে সিলেট সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আর কর্তৃপক্ষকে হতে হবে আরো দায়িত্বশীল।