ছোট ভাই জি এম কাদেরকে দলের ‘কো-চেয়ারম্যান’ পদ ফিরিয়ে দেওয়ার একদিন পরেই নিজের অবর্তমানে ভবিষ্যত্ উত্তরসূরি হিসেবে আগের ঘোষণাও পুনর্বহাল করলেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। গতকাল শনিবার এরশাদ নিজের স্বাক্ষরিত ‘সাংগঠনিক নির্দেশ’ শিরোনামের এক চিঠিতে ঘোষণা দেন, তাঁর অবর্তমানে ও চিকিত্সার জন্য বিদেশে থাকাবস্থায় জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গত ২২ মার্চ রাতে জি এম কাদেরকে ‘কো-চেয়ারম্যান’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ১১ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার তাঁকে এই পদে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করা হয়।
গতকাল এরশাদ তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘গত ২২ মার্চ আমার স্বাক্ষরিত একটি সাংগঠনিক নির্দেশ জারি করেছিলাম, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। উক্ত সাংগঠনিক নির্দেশ অত্র সাংগঠনিক নির্দেশ দ্বারা বাতিল ঘোষণা করছি। আমি আবারো জাতীয় পার্টির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে আমার অবর্তমানে বা চিকিত্সাধীন অবস্থায় বিদেশে থাকাকালে পার্টির বর্তমান কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অত্র সাংগঠনিক নির্দেশ দ্বারা পুনর্বহাল করলাম।’
এরশাদ গত ১ জানুয়ারি জি এম কাদেরকে দলে তাঁর উত্তরসূরি ঘোষণা করেন। পরদিন তাকে সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবেও মনোনয়ন দেন। এরপর ২২ মার্চ রাতে ‘সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যর্থতা’ ও ‘দলে বিভেদ’ তৈরির কথা উল্লেখ করে আকস্মিকভাবে কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেন। ৪ জানুয়ারি এক ‘সাংগঠনিক নির্দেশে’ জি এম কাদেরকেও বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকে অপসারণ করেন এরশাদ। ওইদিনই উপনেতার পদে তার স্থলাভিষিক্ত করেন রওশন এরশাদকে। রওশন ইতিমধ্যে উপনেতা হিসেবে সংসদের স্পিকারের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ফলে উপনেতার পদে জি এম কাদেরের ফেরার সুযোগ আপাতত নেই।
জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলের উপনেতার পদ থেকে অপসারণের প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে রংপুরে নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করতে থাকেন। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে এরশাদকে বাধ্য করতে গড়ে তোলা হয় ‘জাতীয় পার্টি ঐক্যজোট’। এর ব্যানারে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করা হয়। ওই মানববন্ধন থেকে জি এম কাদেরকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহালের জন্য এরশাদকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। আল্টিমেটামের সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার আগেরদিনই ভাইকে ‘কো-চেয়ারম্যান’ পদ ফিরিয়ে দেন এরশাদ।
এরশাদ যেন তাঁর এবারের সিদ্ধান্ত আর পরিবর্তন করতে না পারেন এবং দলে জি এম কাদের বিরোধীরা যেন নতুন করে আর ‘ষড়যন্ত্র’ করার সুযোগ না পান, সেই লক্ষ্যে গতকাল সকাল থেকে দিনভর এরশাদের বারিধারার বাসার নিচে পাহারায় বসেন শতাধিক কর্মী। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন রংপুরের, ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকেও কিছু কর্মী তাদের সঙ্গে যোগ দেন। রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়েও গতকাল দিনভর অবস্থান নেন শতাধিক কর্মী। এই পরিস্থিতিতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা দুইদিন ধরে এরশাদের বাসা-কার্যালয় এড়িয়ে চলছেন।
