বর্তমান বাজারে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকা খুব বেশি নয়। এই অল্প টাকার বিনিময়ে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। আর এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন প্রকল্পভিত্তিক ভর্তুকি বা অর্থসহায়তা দিচ্ছে। কৃষকরা এসব অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণও নিতে পারছে। অন্যদিকে ব্যাংকের অন্যান্য অ্যাকাউন্টের মতো এসব অ্যাকাউন্টের জন্য ন্যূনতম কোনো স্থিতি রাখার প্রয়োজন হয় না। বাড়তি কোনো চার্জও আরোপ করা হয় না। ব্যাংকের এমন সেবার ফলে একদিকে যেমন সুবিধাবঞ্চিতরা আর্থিক সেবার আওতায় আসছে, অন্যদিকে এসব অ্যাকাউন্টধারীরা আর্থিকভাবে উপকৃতও হচ্ছে। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে উঠছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নামমাত্র টাকায় খোলা ব্যাংক হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা এখন এক কোটি ৯০ লাখের বেশি। এসব অ্যাকাউন্টে এক হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ১০ টাকার এ অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অ্যাকাউন্ট রয়েছে কৃষকদের। কৃষকদের অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ৯৮ লাখ ৮৭ হাজার। যা মোট অ্যাকউন্টের অর্ধেক। এরপর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারি ভাতাভোগীর অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ৫০ লাখ ৯২ হাজার। এ ছাড়া, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি, খাদ্য ও জীবন নিরাপত্তা কর্মসূচি, পরিচ্ছন্ন শ্রমিক, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সুবিধাবঞ্চিতরা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন। তাদের এসব অ্যাকাউন্টে ভাতাও পাচ্ছেন।
কৃষক, মুক্তিযোদ্ধা, অতি দরিদ্র মহিলা, দুস্থ, ছিন্নমূল ও কর্মজীবী শিশু এমনকি ভিক্ষুকরাও যাতে ১০ টাকায় অ্যাকউন্ট খুলতে পারে সেজন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইভাবে স্কুল পর্যায়েও শিক্ষার্থীরা যেন এ সুযোগ পায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে ব্যবস্থা করেছে।
ন্যূনতম মূল্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যখন শুরু হয়, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন ড. আতিউর রহমান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকসহ সমাজের অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবায় আনার জন্য এ সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এ অ্যাকাউন্টের আওতায় কৃষকদের কৃষি উপকরণ ও ভাতার টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এসেছে। এতে প্রশাসনের জন্য কাজ করা অনেক সুবিধা হয়েছে। আগে ভর্তুকি ও সরকারি সহায়তার মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীরা থাকতো। ফলে সঠিকভাবে প্রান্তিক মানুষের কাছে সহায়তা ও ভর্তুকি পৌঁছাতো না। আবার এ কাজ করতে অনেক বেশি সময় লেগে যেতো, এখন সেটা সহজ হয়েছে। এ ছাড়া একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রেমিট্যান্স উত্তোলন, কৃষি ঋণ গ্রহণেরও সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ হিসাবে (ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত) দেখা গেছে, কৃষকের অ্যাকাউন্টের বাইরে সোনালী ব্যাংকে ৩৫ লাখ সাত হাজার, অগ্রণী ব্যাংকে ১৬ লাখ ৬০, জনতা ব্যাংকে ১১ লাখ ৭৭ হাজার, রূপালী ব্যাংকে দুই লাখ ১৯ হাজার, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ১৪ লাখ ২০ হাজার, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে আট লাখ দুই হাজার, বেসিক ব্যাংকে প্রায় সাড়ে চার হাজার এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে এক হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
এর বাইরে ১০০ টাকার বিনিময়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছে ১৮ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষার্থী। ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৫৭টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৫৬টিতে এসব হিসাব খোলার সুযোগ ছিল। স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা এসব হিসাবে সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫১০ কোটি টাকা।
