বিরূপ প্রকৃতি

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ২৩:০০

এই রোদ এই বৃষ্টি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

হঠাত্ বৃষ্টি, আবার রোদ। এরপর প্রচণ্ড গরম। প্রকৃতির এমন বিরূপ আচরণে অবাক অনেকেই। গত কয়েকদিন ধরে চলছে প্রকৃতির এই খেয়াল। এপ্রিল মাসের শুরু থেকে আবহাওয়ার এই অবস্থা বিরাজ করছে। এ মাসে মৃদুু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মার্চ-এপ্রিল-মে মাস হচ্ছে কালবৈশাখীর মৌসুম। একে প্রাক মৌসুমি কাল বলা হয়। এ সময় পশ্চিমা লঘুচাপ থাকে। এ লঘুচাপ পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে সৃষ্টি হয় এবং পর্যায়ক্রমে তা বাংলাদেশের স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হয়। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র বাতাস উঠে আসে। যা সাধারণত একটু ঠান্ডা থাকে। ফলে গরম হাওয়া এবং জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বাতাস মিলে মাঝে মাঝে এ ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করে। অর্থাত্ বৃষ্টি হচ্ছে আবার রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া এই মৌসুমের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। আজ রবিবার রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি  অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এপ্রিল মাস সবচেয়ে উষ্ণতম মাস। এ মাসে রাতে বৃষ্টি হলে ভোরের তাপমাত্রা অনেকটা হ্রাস পায়। বাতাসে আর্দ্রতাও থাকে না। যার ফলে চারপাশের আবহাওয়া একদম ঠান্ডা অনুভূত হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা নেই তখন চারপাশে বিদ্যমান যে আবহাওয়া বিরাজ করছে সেটা দেখে সতর্ক হতে হবে। যদি এ সময়ে পশ্চিমাকাশে কালো মেঘ দেখতে পান তখন অবশ্যই আপনাকে সতর্ক হতে হবে। আর যদি বজ্রপাত হয় তাহলে আধা বা এক ঘণ্টা নিরাপদে অবস্থান করতে হবে। যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়। এটা শুধু শহরেই নয় গ্রামে থাকা লোকজনও নিরাপদে থাকতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস

আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অন্যত্র ১ থেকে ২টি মৃদু/মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত কারণে এ মাসের শেষার্ধে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজ করতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত গ্লোবাল প্রডিউসিং সেন্টার (জিপিসি), এ্যাপেক ক্লাইমেট সেন্টার (এপিসিসি) এর প্রাপ্ত মডেল পূর্বাভাস, প্রাপ্ত আবহাওয়ার উপাত্ত, জলবায়ু মণ্ডল, এল নিনো/লা নিনা’র অবস্থা ইত্যাদি যথাযথ বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিয়েছে।  ওই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১-২টি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এছাড়া দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ২-৩ দিন মাঝারি/তীব্র ঝড় ও দেশের অন্যত্র ৩-৪ দিন হালকা/মাঝারি বজ্রঝড় হতে পারে। ১-২টি তীব্র তাপপ্রবাহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এবং অন্যত্র ২-৩টি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।