সাইদুর রহমান
উন্মুক্ত করা হচ্ছে না নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের হলফনামা। ইতোমধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন এবং চলমান পঞ্চম উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করা হয়নি। আইনে বাধ্যবাধকতা থাকলেও এতদিন প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, দ্রুত হলফনামা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদের পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের মূল চার ধাপে ৪৪৪টি উপজেলার নির্বাচন গত ১০ মার্চ শুরু করে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে; কিন্তু শনিবার পর্যন্ত এসব উপজেলার প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের হলফনামা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। কমিশনের ওয়েবসাইটে ‘৪র্থ ও ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামা’ কথা লেখা থাকলেও সেখানে রয়েছে শুধু ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের তথ্য।
নির্বাচন কমিশনের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়ালের চতুর্থ অধ্যায়ে বলা আছে, ‘প্রার্থীদের কাছ হতে হলফনামার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যাদি রিটার্নিং অফিসারকে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে যাতে ভোটারগণ প্রার্থীদের যাবতীয় তথ্যাদি বিচার বিশ্লেষণ করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে পারেন। এছাড়া বলা হয়েছে, এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে তাও এ অধ্যায়ে বলা হয়েছে।
এদিকে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ৪ মার্চ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে ৪৯ জন নারী সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। রিটার্নিং অফিসার তাদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পর প্রায় দেড় মাস পার হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ব্যক্তিগত আট তথ্য সম্বলিত হলফনামা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। এতেও আদালতের নির্দেশ ও নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থীর হলফনামার তথ্য প্রকাশ করে আসছে নির্বাচন কমিশন। মূলত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র হাতে পাওয়ার পরপরই হলফনামা প্রকাশ করা হয়। সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের জন্যও একই বিধান প্রযোজ্য। এর আগে দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত ওই সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের পরপরই তাদের হলফনামা প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান প্রার্থীদের ঋণ ও বিল সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পান। দশম সংসদের নারী আসনে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় বিটিসিএল-এর টেলিফোন বিল খেলাপের অভিযোগে রিটার্নিং অফিসার আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবিহা নাহার বেগম (সাবিহা মুসা) ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোরশেদ আরা হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ইসি সচিবালয় রিটার্নিং অফিসারকে দেওয়া একটি চিঠিতে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের হলফনামা প্রচারের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশ্লিষ্ট বিধান স্মরণ করিয়ে দেয়; কিন্তু তারপরেও এ বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান বলেন, বিষয়টি বাধ্যতামূলক না। এছাড়া কিছুটা কারিগরি সমস্যাও রয়েছে।
এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়ার শেষ সময় পার হয়ে গেছে গত ৩০ জানুয়ারি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৪ ডি (৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের ব্যয় বিবরণী জনগণের অবগতির জন্য প্রকাশ করতে হবে; কিন্তু শেষ সময়ের দুইমাস পরেও করা হয়নি। কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলাপে জানা যায়, তারা নিজেরাও জানেন না কতজন প্রার্থী এই বিধান প্রতিপালন করেছেন।
