ভাষানটেক, ধামালকোট, মাটিকাটা, মানিকদী, বালুঘাট, লালসরাই, বাইগারটেক ও আলবদীরটেক এলাকা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডটি গঠিত। দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস এই ওয়ার্ডে। এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সড়কই ভাঙাচোরা। গর্তে ভরা। বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে কাউন্সিলর সড়ক সংস্কার ও নালা নির্মাণের ঘোষণা দিলেও গত দুই বছরে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
পূর্ব ভাষানটেকের বাগানবাড়ি সড়কটির অবস্থা একেবারেই বেহাল। দেখা যায়, বৃষ্টি ছাড়াই নোংরা পানিতে পুরো সড়ক সয়লাব হয়ে আছে। সড়কের বড় গর্তে যানবাহন পড়ে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকার লোকজন বাঁশে লাল কাপড় বেঁধে গর্ত চিহ্নিত করেছেন।
সড়কের পাশের দোকানদার মনির মালতিয়া বলেন, এই রাস্তাটা বহুদিন ধরে এমন ভাঙা। ময়লা পানি জমে থাকে। মাঝে-মধ্যে গাড়ি উল্টে যায়। সকালে ভাঙা রাস্তায় যানজট লেগে যায়। এই রাস্তা জরুরিভিত্তিতে মেরামত করা দরকার।
এই ওয়ার্ডের মানিকদী আদর্শ বিদ্যানিকেতন, মানিকদী বাজার, বালুঘাট বাজার, বাইগারটেক, কালীবাড়ি মোড় সবখানেই সড়ক বেহাল। মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশন মোড় থেকে ভাষানটেক বাজার পর্যন্ত দুই পাশের সড়ক ও ফুটপাতের বেশির ভাগই ব্যবসায়ীদের দখলে। সড়কের ওপর গড়ে উঠেছে দোকানপাট, বাজার। ফুটপাত না থাকায় এলাকাবাসী ও পথচারীদের মূল সড়কে নেমে হাঁটতে হচ্ছে। দ্রুতগতির কোনো গাড়ি এলে দোকান কিংবা গ্যারেজের ভেতরে ঠাঁই নিতে হয় পথচারীদের।
ভাষানটেক এলাকায় রাস্তার দুইপাশে আছে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি), জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল ও হাসপাতাল, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাডেমিসহ বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান। সড়ক ও ফুটপাতে হাঁটার উপায় না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ পথচারীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
ধামালকোট এলাকার বাসিন্দা মিরাজ হোসেন বলেন, ফুটপাত আছে ঠিকই, কিন্তু হাঁটার মতো অবস্থা নেই। পাশ দিয়ে গাড়ি গেলে মনে হয় এখনই ধাক্কা লাগবে। নির্বাচনের আগে কাউন্সিলর বলেছিলেন সড়কে দোকান থাকবে না। কিন্তু যে অবস্থা তা-ই।
১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বেশ কিছু বস্তি রয়েছে। ওয়ার্ডে নিম্ন আয়ের লোকজনের সংখ্যাই বেশি। নির্বাচনের আগে কাউন্সিলর প্রার্থীরা বস্তির বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। ভাষানটেকের ধামালকোট এলাকার সোবহান রোড ১ ও ২ নম্বর বস্তি, সৌখিন রোড বস্তির একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দুই বছর পার হলেও তাদের অবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। বস্তিগুলোর বিদ্যুত্ সংযোগের বেশির ভাগই অবৈধ। পানির কিছু বৈধ সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ অবৈধ। বস্তিতে নেই গ্যাসের সংযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই বস্তির সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
ওয়ার্ডের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, মশার উত্পাতে তারা অতিষ্ঠ। বস্তি থেকে শুরু করে আবাসিক ভবন সবখানেই মশার যন্ত্রণা। ওয়ার্ডের আলবদীরটেক ও বাইগারটেক এলাকায় রয়েছে গ্যাসের সমস্যা।
ইত্তেফাক/নূহু
