আগুনে দগ্ধ নুসরাত জাহানের চিকিৎসায় নয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। রবিবার সকাল ১০টায় এই বোর্ড গঠন করা হয়।
ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করায় নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
বোর্ডে রয়েছেন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, অধ্যাপক আবুল কালাম, অধ্যাপক রাইহানা আউয়াল, অধ্যাপক লুৎফর কাদের, অধ্যাপক মহিউদ্দিন, অধ্যাপক বিধান সরকার, অধ্যাপক নওয়াজেশ খান, চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম ও জহিরুল ইসলাম।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিট থেকে জানা যায়, নুসরাত জাহানের শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে আজ থেকে নল দিয়ে খাবার দেওয়া হচ্ছে। সোনাগাজী থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর পরই তার একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার পর একজন পরীক্ষার্থী নুসরাতকে বলে, তার এক বান্ধবীকে ছাদে নিয়ে মারধর করা হচ্ছে। এটা শুনে সে দ্রুত ছাদে যায়। এরপরই এই ঘটনা ঘটে।
আরো পড়ুন: খালেদাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি: হানিফ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাত জাহান আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় যায়। পরে সে প্রকৃতির ডাকে বাথরুমে যায়। সেখানে থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার অনুগত কয়েক দুর্বৃত্ত তাকে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। তার আত্মচিৎকারে শিক্ষকরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ইতিপূর্বে ওই ছাত্রীর মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় অভিযোগ করেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলা সবসময় তার মেয়ে নুসরাত জাহানকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করতেন। এ অভিযোগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।
ইত্তেফাক/জেডএইচ

